সরিষাা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আর হলুদ চাঁদরে ছেঁয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সরিষা ফসলের মাঠ। প্রজাপতি আপন মনে নেচে বেড়াচ্ছে ফুলে ফুলে,আর মৌমাছি নেচে নেচে সংগ্রহ করছে মধু। হেমন্তের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা আর শীতের কুয়াশা জড়ানো সকালে বা বিকালে হলুদ চাঁদরে ভরা ক্ষেতর আলে (আইলে) দাঁড়িয়ে বুকভড়া নিঃশ্বাস নিতে কারনা মন চায়। বর্তমানে সরিষা ক্ষেত দেখলে মনে হয় প্রকৃতি তার সব ভালবাসা যেন উজার করে দিয়েছে।

কাউনিয়ার চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন গ্রাম গুলোতে সরিশার ফুল কৃষকের মনে হাসির ঝিলিক ফুটিয়ে তুলেছে। দিগন্ত মাঠ জুড়ে চোখ বাঁধানো হলুদ ছোঁয়া ক্ষেত। মৌমাছির গুণ গুণ শব্দে ফুলের মধু সংগ্রহ এ এক অপরূপ প্রকৃতির চিরায়িত দৃর্শ্য দেখে পথিক থমকে দাঁড়িয়ে এক মুহুর্তে মুগ্ধ হয়ে  যায়। কিছু দিন আগেও কাউনিয়া উপজেলায় তেমন সরিশার ক্ষেত চোখে পড়ত না। হারিয়ে যেতে বসে ছিল গ্রাম বাংলার এ জনপ্রিয় চাষাবাদ। কৃষি বিভাগের নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল জাত কৃষকের হাতে আসায় ভাল ফলন পেয়ে চাষীরা স্বল্প মেয়াদী জাতের সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছে। অতীতে গ্রাম বাংলার মানুষেরা রান্নায় সরিষা তেলের বিকল্প অন্য কিছু কখনই ভাবতে পারত না।

বর্তমানে বাজারে সয়াবিন তেলের জয় জয়কার ঘটার এবং সরিষা তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কদর কমতে শুরু করেছে। আগে মহিলা পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সহ সকলেই মাথায় সরিষা তেল ব্যবহার করতো, এখন শুধু গ্রামে ছোট ছোট শিশু ছাড়া কেউ সরিষা তেল ব্যবহার করেনা। একারণে সরিষার চাষাবাদ দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছিল। কৃষি বিভাগ কৃষকদের কৃষি উপকরণ সার- বীজ বিনা মূল্যে যথা সময়ে বিতরণ করায় এলকার প্রান্তিক চাষীরা আগাম সরিষা বপন করেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলার ১টি পৌরসভা সহ ৬ ইউনিয়নে  ২শ’ ৭০হেক্টর জমিতে সরিষা লক্ষ্য মাত্রা বিধারণ করা হলেও চাষাবাদ হয়েছে প্রায় ৩শ’হেক্টর জমিতে।

শুরুতে সরিষা ক্ষেতে রোগ বালাই ও পোকা মাকড়ের আনা গোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতার কারণে সরিষা ক্ষেত অনেকটা রোগ বালাই মুক্ত রয়েছে। এ বছর কাউনিয়ায় সরিষা বারী-৯, জাত-১৪,১৫ রাই সরিষা, হাইব্রিড সরিষা সহ বেশ কয়েকটি স্বল্প মেয়াদী জাত চাষাবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে চরাঞ্চেলে সরিষা চাষ হয়েছে বেশী। যে সমস্ত জমিতে আলু,গম,ভূট্রা হয়না দোলা প্রকৃতির জমি সেখানে স্বল্প খরচে এ জাত গুলো চাষাবাদ করা হয়েছে। এজাতের সরিষা ক্ষেত থেকে উঠে আসার পর অনায়াসে ইরি বোরো ধান চাষ করা যায়।

একারণে চাষীরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কুর্শা ইউনিয়নের সিংহেরকুড়া গ্রামের সরিষা চাষী ফরিদুল,শাহ আলম জানান, আগে ২-৩বিঘা করে জমিতে সরিষা চাষ করতাম, ফলন বেশী ভাল না হওয়ায় সরিষা চাষ বাদ দিয়াছিলাম এখন কৃষি বিভাগ স্বল্প সময়ে ওঠে আসা উচ্চ ফলনশীল সরিষা বীজ বিনামূল্যে দেওয়ায় এবং বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় আবারো সরিষা চাষ শুরু করেছি, এ ছাড়া সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষ করে মধু বিক্রয় করে বার্তি আয় হচ্ছে। টেপামধুপুর ও কুর্শা ইউনিয়নে ৩০টি মৌ চাষের বাক্স দেয়া হয়েছে। শাহ আলম জানায় ১৫টি মৌ বাক্স থেকে ইতোমধ্যে সে ৩০ কেজি মধু বিক্রয় করে ১২ হাজার টাকা আয় করেছে। এখন থেকে প্রতি বছর ২-৩বিঘা করে জমিতে সরিষা চাষ করতে থাকবো। শাহ আলম ফরিদুল ও আমিন মিয়ার মতো অনেকেই এখন সরিষা চাষের পাশাপাশি মৌ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

রাজিব গ্রামের কৃষক ফরহাদ,ইদ্রিস আলী,মোতালেব,শিবু কুটির পার গ্রামের কৃষক সালাম,আবির আলী,খয়বর আলী জানান এ বছর ফলনের লক্ষন ভাল,আশা করছি বাম্পার ফলন পাব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে সরকারীভাবে সরিষা চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার, সরবরাহ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসেম,এমদাদুল হক সকল কৃষককে সু-পরামর্শ সহ কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, একারণে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য