অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মৎস্য আড়ত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইজারাদার অতিরিক্ত হারে টাকা আদায়ের প্রতিবাদে মৎস ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নেমেছে। সোমবার দুপুরে তারা মাছ বিক্রি ও টোল দেয়া বন্ধ করে মানবন্ধন করে। এনিয়ে ব্যবসায়ী ও ইজারাদার মুখোমুখি অবস্থানে। যে কোন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে।

জানাগেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ট্রাকে মাছ আনার পর ওই ট্রাকের মহাজনকে ট্রাক প্রতি ৮শ’ এবং প্রতি কাটুন মাছ বাবদ প্রায় ১০ টাকা করে টোল দিতে হয়। একটি ট্রাকে ১ হাজার কাটুন থাকলে তাকে দিতে হয় আলাদা ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও এ অঞ্চলের পাইকাররা মাছ কিনতে গেলে তাদেরকেও প্রতি কেজিতে ২ টাকা করে টোল দিতে হচ্ছে। কয়েক ধাপে টোল আদায়ের ফলে দিনে দিনে আড়ৎটিতে ক্রেতা বিক্রেতার সংখ্যা কমে আসছে। ৩ বছর আগে এখানে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার পাইকার আসতো এখন সেখানে ১ থেকে দেড়শো জন পাইকার আসেন মাছ ক্রয় করতে।

এছাড়া চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোটবড় মিলিয়ে শতাধিক ট্রাত আসতো। এখন হাতে গোন ৪ থেকে ৫টি ট্রাক আসছে মাছ নিয়ে। অতিরিক্ত টোলের কারণে রংপুরে বাইরে থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ীরা নামমাত্র টোল দিয়ে পার্শ্ববতি শঠিবাড়ি ,সিটি বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে মাছ নিয়ে বিক্রি করছে। টোল আদায়ের নামে চাঁদার ভয়ে অনেকেই আড়তে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে ব্যবসা করতে না পেরে মানবেতর জীবন কাটছে আড়তদারসহ এ পেশার সাথে জড়িত কয়েকশত মানুষের।

এছাড়াও আড়তে নেই কোন অবকাঠামো ও পানি নিষ্কাষনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। তাই তারা গতকাল সোমবার  টোল দেয়া বন্ধ করে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। ব্যবসায়ীরা টোল দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় ইজারাদার ও তার লোকজনের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে সেখানে।

টার্মিনাল মৎস আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু জানান,গত তিন বছর ধরে ইজারাদার তাদের ওপর নানাভাবে নির্যাতিন করে আসছে। অন্যান্য বাজারের তুলনায় এ আড়তে কয়েকগুন বেশি টোল আদায় করা হচ্ছে। টোল আদায়ের নামে তারা বেপরোয়া ভাবে চাঁদাবজি করছে। এ নিয়ে একাধিকবার সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

ইজারাদার হাদিবুজ্জামান শাহিন অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গতবছর জুন মাসে এক বছরের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে সাড়ে ২৪ লাখ টাকায় তিনি মৎস আড়ত ইজারা নিয়েছে। করপোরেশনের বেধে দেয়া দর অনুযায়ী তিনি টোল আদায় করছেন। আড়তদাররা ইজারা দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য