রংপুরে তালাকের পর স্ত্রীর অশ্লীল ছবি ফেসবুকে পোষ্ট করার অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় স্বামী শামিম আহম্মেদ রিপনকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), রংপুর পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধমে পিবিআই রংপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানার জোড়গাছ ব্যাপারী পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিম কার্ড, একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত রিপন চিলমারী থানার জোরগাছ ব্যাপারীপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

পিবিআই রংপুর অফিস সূত্র জানায়,  রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার ইসলামবাগ এলাকার আবুল কালামের মেয়ে কামরুন্নাহার কাকলীর সাথে মামলার আসামী রিপনের টিউশনির মাধ্যমে প্রথমে পরিচয়, প্রেম ভালোবাসা এবং পরবর্তীতে গত ২০১৪ সালের ১ আগষ্ট পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ায় এক পর্যায়ে গত বছরের ২৪ মে  কাকলী তার স্বামীকে খোলা তালাক দেন।

তালাকের কিছুদিন পর রিপন তার স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকে এবং মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কিছুটা সু-সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে তাদের মধ্যে পুনরায় সম্পর্কের টানাপোড়ান তৈরি হলে কাকলী রিপনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন না রাখতে চাইলে রিপন তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং ফেসবুকে ‘আজব মানুষ কাকলী, কেয়ামত জ¦ীন, মনের মানুষ’ প্রভৃতি নাম দিয়ে ফেক আইডি খোলেন এবং তার নিজের ব্যক্তিগত আইডি শামিম আহম্মেদ থেকে কাকলী আক্তারের ফেসবুক আইডি স্নিগ্ধ সকালের সাথে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।

এতে কাকলী আক্তার সাড়া না দিলে তিনি কাকলী আক্তারের  একটি অশ্লীল ছবি তার ইনবক্সে পাঠিয়ে সেটি ফেসবুকে পোষ্ট করে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন এবং ওই ছবিটি ‘আজব মানুষ কাকলী’ নামের আইডিতে পোষ্ট করে পরবর্তীতে সেই পোষ্টটি ডিলিট করে দেন।

এ ঘটনায় গত ৬ ডিসেম্বর কাকলী আদালতে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি রংপুর কোতয়ালী থানায় রুজু করে তদন্তের জন্য পিবিআই পুলিশেকে নির্দেশ দেন। তদন্তের নির্দেশ পেয়ে আসামী রিপনকে গ্রেফতার করে পিবিআই পুলিশ।

গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত রিপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই রংপুর পুলিশের এসআই সালেহ ইমরান  জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য