আরিফ উদ্দিন গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের মাহবুবুর রহমান রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে লেখা-পড়ার খরচ যুগিয়ে থাকে। জেডিসি ফলাফলের পর উপর ক্লাশে (নবম শ্রেণীতে) ভর্তি, খাতা-কলম, বই-পুস্তুক ও জামা-কাপড় অন্যান্য খরচ যোগান দিতে দিন-রাত ভাড়ায় রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে অর্থ অর্থ উপাজন করছে এই ছাত্র।

বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়, উক্ত গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান কঞ্চিবাড়ি মজিদা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবারে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফল ভাল হবে জেনে উপর ক্লাশ (নবম শ্রেণীতে) ভর্তি, বই-প্রস্তুক, খাতা-কলমসহ লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে বসে না থেকে ভাড়াতে রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। সহায়-সম্বলহীন মকবুল হোসেন ক্ষুদ্র তরকারী ব্যবসায়ী। এ ব্যবসায় যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার ঠিক মতো চলে না।

এর উপর ছেলের লেখা-পড়া তার জন্য অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। এব্যাপারে কথা হলে মকবুল হোসেন বলেন-তার এই সামন্য তরকারী ব্যবসার উপর পরিবারের ৬ জন পোষ্য নির্ভরশীল। তাই ছেলের লেখা-পড়ার খরচ যোগান দেয়া তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি লেখা-পড়া বাদ দিয়ে মাহবুবুরকে সাথে থাকতে বললেও সে কিছুতেই লেখা-পড়া ছাড়ছে না। মকবুল হোসেন আরও বলেন-তারা গরীব মানুষ। সমাজের নি¤œ শ্রেণীতে তাদের জীবন-যাপন। যাপিত জীবন বড় কষ্টের। এর উপর লেখা-পড়ার খরচ যোগান দেয়া কঠিন হবে। ভবিষ্যতে আরও অনেক টাকার প্রয়োজন হবে।

তারপর ও লেখা-পড়া শেষে চাকরী পেতে অনেক টাকা দরকার হবে। ভাল কিছু খাওয়াতে-পরাতে হবে। তাই তিনি নিজের দুর্দিন ভেবে ছেলেকে লেখা-পড়া না করে দিন মজুরী কাজ করতে বলেন। কিন্তু, মাহবুবুর তা কিছুতেই শুনছে না। রিক্সা-ভ্যান চালানো অবস্থায় কথা হলে, সে জানায়-সে তার ও তার ছোট ভাই ফাহিমের লেখা-পড়া চালিয়ে যাবে। এতে যতটুকু শ্রম দেয়ার তা সে দিয়ে যাবে। জমিজমা বলতে শুধু ভিটা মাটি আছে। এসব কথা যেন নিবিঘেœ ছলছল চোখে বলে মিষ্টি হাসি দিল মাহবুর রহমান।

আবারও বিরবির করে বলল সকল বন্ধুর মোবাইল রয়েছে। লেখা পড়া আজ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর একটা মোবাইল ফোন দরকার। তার বাবার জমি-জমা নেই। শুধু মাত্র ১৬ হাতের একটি ঘরে জায়গা ছাড়া আর কিছুই নেই। ঐ ঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে পরিবারের সবাইকে। সে লেখা-পড়া শিখে ভবিষ্যতে মানুষ হবে এবং ছোটকেও মানুষ করবে। এ স্বপ্ন নিয়েই সে মা-বাবার কথা ফেলে রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে হলেও নিজে ও ছোট ভাইয়ের লেখা-পড়া চালিয়ে যাবে। সে আরও জানায়- প্রতিদিন ঠিক মতো রিক্সা-ভ্যান চালাতে পারলে ২শ ৫০ থেকে ৩শ ৫০ টাকা আয় হয়। এরমধ্যে রিক্সা-ভ্যান মালিককে তার চুক্তির টাকা দেয়ার পরে যা থাকে তা থেকে প্রয়োজনে ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিতে হয়। সে ভবিষ্যতে লেখা-পড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবার আশাবাদ ব্যক্ত করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য