আরিফ উদ্দিন, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) থেকেঃ প্রেমের পবিত্র শিখা ধিকি-ধিকি জ্বলে, স্বর্গ থেকে আসে প্রেম, স্বর্গে যায় চলে, প্রেম কালা-ধলা, বোঝেনা, স্থান-কাল-পাত্র, গোত্র, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বৈষম্য মানেনা, প্রেমের কোন বয়স নেই্। আর এমনি এক পরকিয়া প্রেমের অভিসারে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুই সন্তানের জননী স্কুল শিক্ষিকা ও দুই সন্তানের জনক মাইক্রোবাস ড্রাইভারকে এলাকাবাসী আটক করে গণধোলাই শেষে প্রেমিক ড্রাইভারের চুল কর্তন করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ মার্চ রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রামের শ্রীমুখ পাড়ায়। সরেজমিনে প্রকাশ, ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং জাইতরবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহ আলমের স্ত্রী কাশিয়াবাড়ি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা দুই সন্তানের জননী এস্তেহান রেবার সঙ্গে পাশ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ঋষিঘাট গ্রামের জনৈক ব্যক্তির পুত্র মাইক্রোবাস ড্রাইভার দেলোয়ারের সঙ্গে পূর্ব থেকেই বিয়াই-বিয়ানের ধর্ম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এই আত্মীয়তার সুযোগে উভয় পরিবার তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ মার্চ শনিবার রাত ৮টার দিকে ড্রাইভার দেলোয়ার শিক্ষিকা বিয়ান রেবার বাড়িতে আসে। এক পর্যায়ে রাত ১০ টার দিকে এলাকাবাসী শিক্ষিকা রেবা ও ড্রাইভার দেলোয়ারকে গোপন অভিসারে মিলিত হওয়ার অভিযোগে পরকিয়া প্রেমিক যুগলকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে প্রেমিকের চুল কর্তন করে। রাতভর আটকের পরদিন ২৩ মার্চ স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক হলেও কোন সুরাহা না মেলায় পরবর্তীতে বিকেলে বিষয়টি মিমাংসা করে নিয়েছেন বলে রেবার শিক্ষক স্বামী শাহ আলম এ প্রতিবেদককে জানায়। তবে আটককৃত অভিযুক্ত পরকিয়া প্রেমিক যুগল এসব অভিযোগের সাথে জড়িত নয় এবং তারা পরিস্থিতির স্বীকার বলে জানায়। বিষয়টি এলাকায় চাউর হলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ-বনিতা আটককৃতদের দেখতে রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত ওই বাড়িতে ভিড় জমালে এলাকায় বিষয়টি বেশ চাঞ্চল্যর সৃষ্টি করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য