দেশে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সম্প্রতি দেশব্যাপি উপজেলা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই বাছাইয়ের তারিখ ঘোষণা করেছে। ওই ঘোষণা অনুযায়ী নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলার যাচাই-বাছাই ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারী থেকে শুরু হবে এবং এটি চলবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এর মধ্যে নীলফামারী সদর উপজেলায় ৭ জানুয়ারী, সৈয়দপুর উপজেলা ১৪ জানুয়ারী, জলঢাকা উপজেলায় ২১ জানুয়ারী, ডোমার উপজেলায় ২৮ জানুয়ারী, ডিমলা উপজেলা ৪ ফেব্রুয়ারী ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা ৭ ফেব্রুয়ারী শুরু হবে।

এব্যাপারে সৈয়দপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার একরামুল হক জানান বার বার যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দোগ নেয়া হয় কিন্তু কাজের কাজ হয় না কিছুই। তবে এবার হয়তো কাজের অগ্রগতি থমকে দাঁড়াবে না। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকরুল হক জানান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ স্বীকৃতিসহ তালিকাভুক্ত হয়নি অথচ অনেকে মুক্তিযুদ্ধ না করেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে।

নীলফামারী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক জানান ১৯৭১ সালে ৯ মাস যুদ্ধ করে বাংলার দামাল ছেলেরা দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। আজ তাদের অনেকে বেচে নেই তাদের পরিবার আজও পায়নি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।তাদের পরিবার আজও আশায় পথ চেয়ে বসে আছে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাদের পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি আশা করেন এবার সঠিকভাবে যাচাই বাছাই হয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করা হবে।

নীলফামারী জেলায় মোট গেজেড ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৮১০জন। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী জানান, অনেক মুক্তিযোদ্ধা আজ তালিকাভুক্ত হয়নি। তাদের অনেকের বাড়ি ঘর নেই, অনেকে রিক্্রা, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েও তারা আজ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। মুক্তি বার্তায় অনেকের নাম থাকলেও অন্যান্য কাগজ পত্রাদির অভাবে তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য