oppo-find-5-hands-on৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নিয়ে আসছে অপো। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সাইটে এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। নোকিয়ার বিস্ময়কর পিউরভিউ প্রযুক্তিকে এত দ্রুত পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে চীনা নির্মাতা অপো – বিষয়টা ঠিক মেনে নেয়া যায়না।

যাই হোক গুজব পেরিয়ে কিন্তু সহ ৫০ মেগাপিক্সেল ভিত্তিক বাস্তব পণ্য ‘ফাইন্ড ৭’ নামের ফোনটি উন্মোচিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বেইজিংয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ফোনটি উন্মোচিত করেছে অপো। ফোনটি ভিন্ন ধরণের পর্দা নিয়ে বাজারে পাওয়া যাবে ফাইন্ড ৭। একটিতে থাকছে ৫.৫” ২৫৬০x১৪৪০ (৫৩৮ পিপিআই) পর্দা আরেকটির পর্দার মাপ এক থাকলেও থাকছে ১০৮০পি রেজ্যুলুশন। কম রেজ্যুলুশন সংস্করণটি অবশ্য ফাইন্ড ৭ লাইট নামে বাজারে পাওয়া যাবে। উভয় সংস্করণ দেখতে একই রকম হলেও ফাইন্ড ৭ এর পেছনের আচ্ছাদনটি কার্বন ফাইবার টেক্সচার দেয়া হয়েছে।

অপো’র ফাইন্ড ৭ হচ্ছে বিশ্বের প্রথম কিউএইচডি বা ২৫৬০x১৪৪০ পিক্সেল পর্দা বিশিষ্ট স্মার্টফোন। হায় স্যামসাং জিএস৫ এ তুমি কি করলা? যাই হোক প্রতিষ্ঠানটি তার পর্দা প্রযুক্তিকে সুপার স্ক্রিন ২.০ বলে উল্লেখ করেছে এবং এর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিশ্বখ্যাত গোরিলা গ্লাস ৩ প্রযুক্তি যা ভেজা হাতেও ব্যবহার করা সম্ভব।

প্যানেলের নিচে ফাইন্ড ৭ এ থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৮০১ এমএসএম৮৯৭৪এসি এসওসি, যার সাথে থাকছে ২.৫ গিগাহার্জ গতির কোয়াড-কোর সিপিইউ এবং অ্যাড্রিনো ৩৩০ গ্রাফিক্স। রয়েছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম, ৩ হাজার এমএএইচ মানের ব্যাটারি, সামনে ৫ মেগাপিক্সেল আর পেছনে লেড ফ্ল্যাশ সহ ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যেটি ৪কে ভিডিও ধারণ এবং ১২০এফপিএস এ ৭২০পি ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। মাইক্রোএসড স্লটটি সর্বোচ্চ ১২৮ গিগাবাইট কার্ড সমর্থন করে। মাইক্রো-সিম, এলটিই, ম্যাক্সঅডিও প্লাস ডিরাক এইচডি অডিও রয়েছে।

ফাইন্ড ৭ লাইট সংস্করণটি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোনের মত। নতুনত্ব নেই। পাচ্ছেন ৫.৫” ১০৮০পি প্যানেল, স্ন্যাপড্রাগন ৮০১ এমএসএম৮৯৭৪এসি এসওসি হলেও এর প্রসেসরের গতি একটু কম ২.৩ গিগাহার্জ, ২ গিগাবাইট র‍্যাম, ১৬ গিগাবাইট স্টোরেজ এবং ২৮০০এমএএইচ মানের ব্যাটারি। লাইটে একই ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে অপো।

ফোনটির সাথে প্রতিষ্ঠানটি ভিওওসি নামে নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে। যা মাত্র ৩০ মিনিটে ব্যবহারকারীকে দিবে ৭৫% চার্জ পাওয়ার সুবিধা। চার্জের সময় ফোনটি যেন অতিরিক্ত গরম না হয় সেইজন্য ফোনটির উপর ৫স্তরে তাপ প্রতিরোধক আচ্ছাদন দেয়া হয়েছে আর ফোনটির টাইটানিয়াম-অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় ফ্রেমটির মোল্ড ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করায় তাপ চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

ফাইন্ড ৭ লাইটের ওজন মাত্র ১৭০ গ্রাম, অবশ্য অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন ফাইন্ড ৭ এর ওজন ৩ গ্রাম বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৩ গ্রাম।

স্পেক পড়ে নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগছে -কোথায় সেই ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ব্যাটা কি ভুল লিখেছে নাকি? না ভুল লেখা হয় নি। প্রতিষ্ঠানটি তার ক্যামেরায় ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাই ব্যবহার করেছে। আরও স্পষ্ট করে বললে ১৩-মেগাপিক্সেল সনি আইএমএক্স২১৪ সিমস ব্যবহার করেছে। তাহলে? প্রতিষ্ঠানটি ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং “পিওর ইমেজ ২.০” নামের একটি সিগন্যাল প্রসেসর ব্যবহার করে ৫০মেগাপিক্সেল ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছে। আরও সহজ ভাবে বলতে হলেও বলতে হবে – অপোর ক্যামেরা বিষয়বস্তুর ১০টি ছবি তোলে, এর পর এই ছবিগুলো থেকে সেরা চারটি ছবি নির্বাচন করে এবং এদেরকে জোড়া লাগিয়ে বিশাল আকৃতির একটি ছবি তৈরি করে যা জ্যুম করা যাবে। এছাড়া এফ/২.০ হওয়ায় স্বল্প আলোতেও ক্যামেরাটি ব্যবহার করে ভালো ছবি তোলা যাবে।

ক্যামেরাটিতে তোলা ছবির রেজ্যুলুশন ৮১৬০x৬১২০, আর ফাইলের আকৃতি ১০ মেগাবাইট। যেহেতু অনেকগুলো ছবি একত্রকরে একটি ছবি তৈরি করে সেহেতু অপোর ক্যামেরার ছবিগুলোতে যে ব্যাপকতা থাকে তা সনি এক্সপেরিয়া জেড১ এর ২০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাও পারেনা। ক্যামেরার সুপার জ্যুম সুবিধাটি সফটওয়্যার ভিত্তিক। ১/৩.০৬” আইএমএক্স২১৪ সেন্সরটির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর প্রতি সেকেন্ডে ৪৮০ মেগাপিক্সেল ব্যান্ডউইথ, যা প্রতিষ্ঠানের ফাইন্ড ৫ এর ১৩-মেগাপিক্সেল সিমস চিপের থেকে ৩৩% দ্রুত গতির।

ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে আগেই বলেছি রয়েছে ৩০ এফপিএস -এ ৪কে ভিডিও করার, ১০০ এফপিএস এ স্লো-মোশন, সর্বোচ্চ ৩২ সেকেন্ডের লং এক্সপোজার, এইচডিআর ভিত্তিক জিফ এবং র মোড। এর কয়েকটি সুবিধা সামনের ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটির সাথে ব্যবহার করা যাবে।
অপো তার ফাইন্ড ৭ এ অ্যানড্রয়েড ৪.৩ এর উপর নিজস্ব কালারওএস ১.২ থিম ব্যবহার করেছে। ফলে পাচ্ছেন ওয়েদার অ্যানিমেশন, জেশ্চার শর্টকাট এর মত নানা সুবিধা।

ফাইন্ড ৭ লাইট সংস্করণের মূল্য $৪৯৯ মার্কিন ডলার (উন্নত বিশ্বে এটি ফাইন্ড ৭এ নামে পরিচিত হবে) আর ফাইন্ড ৭ এর মূল্য $১০০ ডলার বৃদ্ধি করে $৫৯৯ মার্কিন ডলার করা হয়েছে। লাইট সংস্করণটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় আর ফাইন্ড ৭ মে অথবা জুনে চীনের বাজারে পাওয়া যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য