রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশ্বযুদ্ধের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দু দেশ শত্রুতার অবসান ঘটানোর জন্য জাপানের রাজধানী টোকিওতে পুতিন ও অ্যাবে দ্বিতীয় বৈঠক করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই প্রশান্ত মহাসাগরের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শত্রুরা চলে আসছে। বিষয়টি অবসানের জন্য দু নেতা আজ (শুক্রবার) বৈঠকে বসেন। তারা অর্থনৈতিক চুক্তি করতে সক্ষম হলেও কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার জাপান যান পুতিন। জাপান পৌঁছানোর পরই তিনি শিনজো অ্যাবের সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাগাতো শহরে বৈঠক করেন। তারা টোকিওতে আজ দ্বিতীয় বৈঠক করেন এবং সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলনও করেন। সেখানে পুতিন সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক চুক্তির চেয়ে শান্তি চুক্তি করার ওপর তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এর ফলে জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।

শিনজো অ্যাবে বলেন, দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন কাজ। পারস্পরিক বিশ্বাস ছাড়া আসল লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু পুতিন বলেন, কুরিল দ্বীপপুঞ্জে জাপানি নাগরিকদের সফরের ওপর কড়াকড়ি শিথিল করতে পারে তার দেশ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত বাহিনী দ্বীপ চারটি দখল করে নেয়। জাপান বলে আসছে- রাশিয়া বৈধভাবে দ্বীপগুলো দখল করে আছে। অন্যদিকে, ১৯৫১ সালে সই হওয়া স্যানফ্রান্সিসকো চুক্তির কথা উল্লেখ করে রাশিয়া বলছে, ওই চুক্তির মাধ্যমে জাপান দ্বীপের সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দিয়েছে; ফলে জাপানের দাবি ভিত্তিহীন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য