পীরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ কিংবা প্রশাসনের হাতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের তালিকায় অনেকেরই নাম নেই। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও আজও পর্যন্ত রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীর কোন তালিকা তৈরী প্রস্তুত করা হয়নি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলার বিভিন্নস্থানে সম্মুখ যুদ্ধ, রাজাকারের অত্যাচার-তাদেরকে হত্যা এবং শহীদ হয়েছেন অনেকেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন- আবুল কালাম আজাদ, ডাঃ আকবর আলী, ডাঃ ভুষণ চন্দ্র সরকার, লুৎফর রহমান মাষ্টার, সরজু চৌকিদার, শিরিশ চন্দ্র শাহা, তোফাজ্জল হোসেন মন্টু, আবু তাহের মিয়া, দুলু প্রধান, হাকিম মিয়া, সামছুন্নাহারসহ আরো নাম না জানা অনেকেই। এদের মধ্যে বাঁশ পুকুরিয়া গ্রামের ডাঃ আকবর আলী ও খালাশপীর হাটের ডাঃ ভুষণ চন্দ্র সরকারকে বড়আলমপুর ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান রাজাকার আব্দুল গফুর কৌশলে পাকবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপর তারা আর ফিরে আসেনি। পরে রাজাকার আব্দুল গফুরও গুলিতে নিহত হয়।

ওই সময় পচাকান্দর গ্রামের পুলিশ সদস্য-তোফাজ্জল হোসেন মন্টু ও গরীবপুরের আবু তাহের মিয়া কর্মস্থল থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। আজও যারা বাড়ি ফিরে আসেনি। এ ধরনের অনেক শহীদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। চতরাহাটের রাজাকার ক্যাম্পের সাথে করতোয়া নদীপাড়ের বিহারী পল¬ীর সার্বক্ষনিক যোগাযোগ থাকায় চতরা এলাকায় রাজাকারদের দাপট ছিল বেশী।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিধনের জন্য শান্তি কমিটির সেক্রেটারী দোর্দন্ড-প্রতাপশালী নজের হোসেন খাঁন, বিহারী-সামস উদ্দিন, জমির উদ্দিন, দফাদার ফজলার রহমানসহ অনেকেই হানাদার বাহিনীর সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখতো। এ কারনে ৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর দুপুরে চতরার রাজাকার ক্যাম্পের উপর মিত্রবাহিনী বিমান হামলায় করায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সামসুন্নাহার শহীদ হয়। ওই হামলায় রাজাকার নজের হোসেন খাঁনের কন্যা- শিউলী খাতুন ও সিদ্দিকা খাতুন আহত হয়।

এ ব্যাপারে নজের হোসেন খাঁন এ প্রতিনিধির কাছে গর্ব করে বলেছিলেন,“আমি শান্তি কমিটির সেক্রেটারী ছিলাম”। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও পরবর্তী সময়ে এমনকি বিগত ১৪ ইং সালে মৃত্যুর পুর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি ব্যথিত ছিলেন না। অপরদিকে রাজাকার ফরমান সরকার, মোজাই দফাদার, বড়আলমপুর ইউপির আব্দুল গফুর সরকারকে হত্যা করা হলেও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,উপজেলা আওয়ামীলীগ কিংবা প্রশাসনের হাতে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীর তালিকা নেই।

এ ব্যাপারে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজহার আলী রাজা বলেন- হারু রাজাকারের অত্যাচারে খালাশপীর এলাকাবাসী অতিষ্ট ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় হারুন মৌলভী ওরফে হারু রাজাকারকে খালাশপীরহাটে প্রকাশ্যে শাস্তি দেয়া হলেও এখন সেই হারু রাজাকারই মদনখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একজন প্রতাবশালী নেতা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সম্পাদক খলিলুর রহমান মন্ডল বলেন-কয়েকটি শহীদ পরিবারের তালিকা আছে। যুদ্ধাপরাধীর কোন তালিকা নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমল কুমার ঘোষ জানান-আমি নতুন এসেছি,মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধপরাধীদের তালিকা সম্পর্কে এখনো কিছুই জানি না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্ম যখন রাজাকার, আলবদর ও যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ঠিক তখনও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলাবাসীকে অপক্ষোয় থাকতে হচ্ছে যুদ্ধপরাধীদের তালিকার জন্য। স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর পেরিয়ে আরমাত্র ক’দিন পরেই ৪৬ বছরে পা রাখবে। নতুন এ প্রজন্মের প্রশ্ন আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে যুদ্ধপরাধীদের তালিকার জন্য ?

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য