ছোট একটি লোহার খাঁচা। ভিতরে প্রায় এক’শ জীবন্ত ইঁদুর। লম্বা একটি বাঁশ বাধা রয়েছে খাঁচার  নিচে থেকে উপর পর্যন্ত। খাচার উপরি অংশে একটি ব্যাগে ইদুরের খাদ্য আলু ,অপরটিতে রয়েছে বড় আকারের আরো ১০টি ইদুর। বাম কাঁধে একটি ঝোলা ও হাতে শতশত বিষের প্যাকেট এবং ইদুর নিধন সংক্রান্ত পোষ্টার।

বাঁশের উপরি অংশে হাতল ধরে টেনেটেনে খাঁচা ও ব্যাগ হাট বাজার সহ একস্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়। ব্যতিক্রমী পন্থায়  ইদুর নিধনের ওষুধ বিক্রির জন্য কোথাও গেলেই মহুর্তের মধ্যে লোক জড়ো হয় বিক্রেতার কাছে।

কারন গ্রামেগঞ্জে হাটে বাজারে অহরহ ইদুর মারার ওষুধ বিক্রেতাদের দেখা গেলেও এধরনের বিচিত্র ওষুধ বিক্রেতাকে আগে কখনো দেখেননি এলাকাবাসী। ওই ইদুর নিধন ওষুধ বিক্রেতার নাম জহুরুল হক। বিচিত্রময় জীবন তার।

রাজারহাট উপজেলা সদর বাজারে ইঁদুর মারা বিষ(কীটনাশক) বিক্রি করতে আসেন জহুরুল (৩৬)। একস্থানে মানুষের ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকে দেখা হয় তার সাথে। তিনি জানান,শতাধিক গেছো ও মেটো ইঁদুর রয়েছে তার কাছে। ইঁদুর মারার ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি জাল ও ফাঁদ দিয়ে ইঁদুর ধরা তার নেশা।

প্রায় একযুগ ধরে তিনি ইঁদুর ধরা ও ইঁদুর মারা ওষুধ বিক্রি পেশার সাথে জড়িত বলে তিনি জানান। তার একটিই ডাকহাঁক ইঁদুর মারার যম ব্যারাইছে, আসেন এক প্যাকেট নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করুন।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলাপুর গ্রামে তার বাড়ি। জীবন্ত ইঁদুর দেখতে মানুষের ভিড় জমলে এবং ইঁদুর দেখে তা মারা সম্ভব মনে বিশ্বাস জন্ম নিলে তিনি বেশি ইঁদুর নিধনের ওষুধ বিক্রি করতে পারেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য