আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোয়ালের ঘাট বধ্যভূমি স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও সংস্কার, সংরক্ষণ এমনকি সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেরও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শুধু ওই এলাকার একটি নির্ধারিত স্থানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ঘিরে রাখা হয়েছে। যা এখন তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে নদীগর্ভে এখন বিলীন হয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমির জায়গাটি। তাই এলাকাবাসির দাবি ওই বধ্যভূমির জায়গাটি নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক।

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা লায়েক আলী খান মিন্টু জানান, ১০ ডিসেম্বর সালে পাক হানাদার বাহিনীর দখলদারী থেকে এ উপজেলাকে করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ভারতের দার্জিলিং এ ট্রেনিং শেষে ৬নং সেক্টর কমান্ডার মরহুম এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাশার ও কোম্পানি কমান্ডার শাহ নেওয়াজ এবং গাইবান্ধার দায়িত্বে নিয়োজিত ক্যাপ্টেন আজিজের নেতৃত্বে তাঁরা দেশ স্বাধীনের জন্য ভারত সীমানা অতিক্রম করে পাটগ্রাম, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকার রণক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা রেখে সুন্দরগঞ্জ থানার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে থাকে।

এ সময় ভুরুঙ্গামারীতে হানাদার বাহিনীর সাথে মোকাবিলায় ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভুরুঙ্গামারী শত্র“ মুক্ত হয়। পরে সুন্দরগঞ্জ থানা হানাদার মুক্ত করার উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধার প্লাটুন রওনা দিলে তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদী পার হওয়ার চেষ্টা করলে হানাদার বাহিনীর গুলিতে আব্দুল জলিল (ময়মনসিংহ) নামের একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। হরিপুর এলাকা ওই দিনে শত্র“ মুক্ত হয় এবং ১৮ জন রাজাকার মোজাহিদ অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। চন্ডিপুর এলাকায় ৫ জন এবং মাঠের হাট অঞ্চলে আক্রমণ করলে ৭ রাজাকার অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে।

এভাবে হেড কোয়ার্টারে প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধের তৎকালিন কমান্ডার শাহ নেওয়াজ সেই সাথে কমান্ডার মফিজুর রহমান খোকা বাহিনী যোগ দিয়ে কমপক্ষে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ৩টি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে সাড়াশি আক্রমণ চালায়। ৮ ডিসেম্বর গাইবান্ধা মহকুমার সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী হলহলিয়া নামক ব্রীজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দিলে হানাদার বাহিনীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

মুক্তিবাহিনীর রণ কৌশলে হানাদার বাহিনী হেরে গিয়ে পিছু হটতে থাকে। পরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। শুরু হয় রাজাকার ও মোজাহিদ বাহিনীর সাথে লড়াই। যুদ্ধকালে কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়। অবশেষে ১০ ডিসেম্বর ২৫০ জন রাজাকার অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলার সবুজ পতাকা উড়িয়ে সুন্দরগঞ্জ থানাকে হানাদার মুক্ত ঘোষনা করে। হানাদর মুক্ত করতে ভূমিকা রাখেন যারা তাদের অনেকেই মারা গেছেন। অনেকে পঙ্গু হয়ে বেঁচে থেকে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এমদাদুল হক বাবলু জানান, দীর্ঘদিন থেকে গোয়ালের ঘাট বধ্যভূমিটি সংস্কার, সংরক্ষণ এবং স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়। কিন্তু তাতে কোন সাড়া মেলেনি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত হাবিবুল আলম জানান, গোয়াল ঘাট বধ্যভূমির জায়গা সংরক্ষণ এবং তিস্তার নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইতিমধ্যে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই বধ্যভূমিটি সংস্কার, সংরক্ষণ এবং স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য