সকল রোগের ঔষধ মিলছে পাটগ্রামের মরিয়ম বিবির কাছেছাবিনা বেগম। বয়স ১৩ বৎসর। মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় ব্যথা পেয়েছিল। ১৫দিন ধরে রংপুরে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা নিয়ে ছাবিনার অবস্থার উন্নতি হলেও কমছে না মাথা ব্যথা ও বমি,জানালেন ছাবিনার নানী জরিনা বেগম (৫৫)। ছাবিনার মাথা ব্যথা ও বমি বন্ধ করার জন্য ওর মা ও নানী জরিনা বেগম এসেছেন মরিয়মের কাছে।মরিয়মের বাড়িতে গেলে দেখা মেলে হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের জরিনা বেগম ও তার মেয়ের।

এখানে কেন এসেছেন? জানতে চাইলে বললেন,‘নাতনী মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়ে রংপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসায় উন্নতি হলেও মাথা ব্যথা ও বমি কমছে না। তাই মরিয়মের কাছে এসেছি নাতনীর চিকিৎসার জন্য। শুনেছি মরিয়ম বেগম সকল রোগের ঔষধ দেন। জরিনার মত আরো এসেছেন হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের শরিফা বেগম(৩০),বাউরা ইউনিয়নের অবসর প্রাপ্ত বিজিবি সদস্য সফিয়ার রহমান,বাউরা ইউনিয়নের সফিরহাট এলাকার আমিনুর মিয়া ও আরো দশ থেকে বারজন নারী ও পুরুষ।এরা সবাই মরিয়ম বেগমের কাছে এসছেন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য।

সফিয়ার রহমান বললেন,‘আমি প্যারালাইসিস রোগ নিয়ে অচল হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলাম।মরিয়ম আপার কাছে চিকিৎসা নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে উঠছি।আজকে এসেছি তেল মালিশ করে নেওয়ার জন্য। লাখ টাকার কাজ যদি ২৫টাকায় হয় তাহলে আসব না কেন।আমি মরিয়ম আপাকে একটি খাসি উপহার দিয়েছি।’

সফিরহাটের আমিনুর বললেন,‘আমার শরীর ঝিম ঝিম ব্যথা করে। তাই মরিয়ম আপার কাছে এসেছি চিকিৎসার জন্য।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাউরা ইউনিয়নের চাউলাতি পাড়ার একজন বৃদ্ধা তাঁর ছেলেকে নিয়ে এসছেন ছেলের বিয়ে হচ্ছে না বলে। এমন আর একজন নিঃসন্তান নারী এসছেন সন্তান লাভের জন্য।

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ১নং ওয়ার্ডে মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে মরিয়ম বেগমের (৩৫) বাড়ি। স্বামী আলিবর রহমান (৫০)।আলিবর রহমান বাউরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলে নিজের পরিচয় দিলেন। মরিয়ম বেগম ৪সন্তানের মা। তিনি বিয়ের পর গৃহিনী হয়ে ঘর-সংসার করলেও গত দুই বৎসর থেকে রীতিমত ডাক্তারি করছেন। আয় উপার্জন করছেন ভালই। মরিয়ম বেগম জানালেন,প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় হয়।

তবে এই টাকার সবটাই তিনি নিজে ভোগ করেন না। এলাকার মসজিদ মাদ্রাসায়ও দান করেন। তার ডাক্তার হওয়ার বিষয়ে অদ্ভুদ বয়ান দিলেন তিনি-‘আমি একটা বাতাস। হাওয়া জাতীয় জিনিস। আমি মেয়েটাকে আক্রমন করেছি ৩বৎসর ৩মাস।(মরিয়ম বেগম মনে করেন তিনি নিজে কিছু না। কেউ একজন তার ভিতরে আছেন।তিনি এটাকে একজন মেয়ে বলে জানেন।

তিনিই তার চিকিৎসার মূল শক্তি) চেকেৎসা (চিকিৎসা) করার বয়স আমার ২বৎসর ৩মাস। আমি গননার টাকা তিনভাগের দুই ভাগ মেয়েটাকে দেই। আর এক ভাগ মসজিদে দেই। আমি প্রতিজনের কাছ থেকে গননার জন্য ২৫টাকা নেই। ১০দিন,১৫দিন এমনকি ১মাস, ৩মাস পর্যন্ত আমি ঝাড়ফুঁক করি। আমার ১নম্বর চেকেৎসা (চিকিৎসা) হলো ঝাড়ফুঁক,২নম্বর চেকেৎসা (চিকিৎসা) হলো পানিপড়া খাওয়ানো, ৩নম্বর মেয়েদের বিভিন্ন মেয়েলি সমস্যা ও পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব, ৪নম্বর প্যারলাইসেস (প্যারলাইসিস), অঙ্গহানি, কুড়কুষ্টি(কুষ্ঠ)। এছাড়াও বিভিন্ন রোগের ঔষধ দেই আমি।’

খোঁজ নিয়ে দেখা গেল মরিয়মের ঘরে বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক কোম্পানির ঔষধ মজুদ আছে। হ্যানিম্যান,ইউনিসন,ফার্মাজেম কোম্পানিসহ বিভিন্ন কোম্পানির ঔষধ তার ঘরে। এছাড়াও কালো কচু ও হ্যান্ডা নামের একটি গাছের কান্ড ও লতাপাতাও আছে তার ঘরে। জানা গেছে মরিয়ম বেগমের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

আপনার কোন লাইসেন্স আছে কিনা?জানতে চাইলে মরিয়ম বেগম বললেন,না,আমার কোন লাইসেন্স নাই। তবে আমার চিকিৎসায় লোকেরা ভাল হয়।লাইসেন্সের কথা বলতেই তিনি পাটগ্রাম উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের কিছু রাজনীতিকের নাম উল্লেখ করে বললেন,এরা আমার কাছে এসেছিল চিকিৎসার জন্য। তারা আমার করা চিকিৎসা দেখে ধন্যবাদ দিয়েছেন আমাকে।মরিয়ম বেগমের চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানাজনে নানান মন্তব্য করছেন।

পাটগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি)অবনি শংকর কর জানান,এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি আমার কাছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখব। এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর ডাক্তার গোলাম মোহাম্মদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য