ভারতে সুফি মাজারে নারীদের পুনরায় প্রবেশমুম্বাইয়ের হাজি আলি মসজিদে একদল নারী দীর্ঘ চারবছর পর প্রবেশ করতে পেরেছেন।

সুফি এই মাজার পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাদের অর্থাৎ নারীদের ওই মাজারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

বিবিসি বলছে, মুম্বাইয়ের উচ্চ আদালত অগাস্টে মাজার কর্তৃপক্ষের ওই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সংবিধানের লঙ্ঘন’ এবং নারীর প্রতি বৈষম্য বলে অভিহিত করে।

আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে মাজার কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আদালতে গেল মাসে আপিল করলেও পরবর্তী সময়ে তারা তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতে যেসব মাজার ও মন্দিরগুলোতে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল সেগুলোতে প্রবেশের অধিকার চেয়ে বেশ কয়েকটি আন্দোলন হয়েছে।

যদিও হাজি আলি মসজিদ কম্পাউন্ডের মূল মাজার ছাড়া অন্যত্র নারীদের প্রবেশে বাধা ছিল না। ২০১২ সালে পরিচালনা কর্তৃপক্ষ মূল মাজারে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

একজন সুফি পীরের মাজার রয়েছে সেখানে।

পরিচালনা কর্তৃপক্ষের দাবি, একজন পুরুষ পীরের মাজার নারীদের স্পর্শ করতে দেওয়া ‘পাপ’।

মঙ্গলবার অধিকার গোষ্ঠী ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের (বিএমএমএ) প্রায় ১০০ জন নারী ওই মাজারে প্রবেশ করেন বলে ওই গোষ্ঠীর কর্মী জাকিয়া সোমান জানিয়েছেন।

বিবিএমএ পঞ্চদশ শতকের ওই মাজারে প্রবেশে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের উচ্চ আদালতে মামলা করে।

ভারতজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারীরা ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিল।

সোমান জানান, মাজারে প্রবেশ করে অনেক নারীই নামাজ পড়েছেন।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, পুরুষ ধর্মনেতাদের ধর্মীয় বিভিন্ন স্থানে নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া সিদ্ধান্ত, ধর্মের নামে পিতৃতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ারই নামান্তর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য