দিনাজপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সুগন্ধি ধান ব্রি-৩৪  সোহেল সানী. পার্বতীপুর থেকেঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এবার আমন মৌসুমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সুগন্ধি জাতের ব্রি-ধান ৩৪। উপজেলার অধিকাংশ কৃষক ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি-ধান ৩৪ জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার কৃষকরা এ সব জাতের ধান চাষে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

কৃষকরা ভারতীয় স্বর্ণা জাতের ধান চাষের বদলে সুগন্ধি জাতের ব্রি-ধান ৩৪ এ উৎপাদন খরচ খুবই কম, দামও অন্য ধানের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে ফলন অনেক ভাল হওয়ায় কৃষকেরা সুগন্ধি ধান চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। তাছাড়া রোগ বালাইয়ের আশংকাও থাকে অনেক কম। এছাড়া সুগন্ধি ও চিকন চাল বিদেশে রপ্তানী হওয়ায় বাজারে রয়েছে প্রচুর চাহিদা। দামও বেশী বলে জানালেন পার্বতীপুরের স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা। সবমিলে কৃষকরা এবার সুগন্ধি ধানে ঝুকে পড়েছে।

পার্বতীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার বেলাইচন্ডি, মন্মথপুর, রামপুর, পলাশবাড়ী, চন্ডিপুর, মোমিনপুর, হাবড়া, হরিরামপুর, হামিদপুর ও মোস্তফাপুর ইউনিয়নসহসহ ১০ ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৪শ’ ১৫ হেক্টর জমিতে ব্রি-ধান ৩৪ জাতের সুগন্ধি ধানের চাষ করা হয়েছে। যাহ শতকরা ৮০ ভাগ জমিতে ধান চাষ হয়েছে। গত বছর ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধান চাষ হয়েছিল। যার শতকরা ছিল ৩৫ ভাগ।

মন্মথপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহাম্মেদ জানান, কৃষকরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি-ধান ৩৪ জাতের সুগন্ধি ধানের চাষ করা করছেন। উপজেলার ১০ ইউনিয়নে গত বছরের তুলনায় এবছর সুগন্ধি ধান চাষ তিনগুন ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকরা এই ধানের চাষ নিয়ে এখন নতুন করে সোনালী স্বপ্ন দেখছেন। বিস্তীর্ন ফসলের মাঠ এখন মৌ মৌ সুগন্ধ ছড়াচ্ছে।

উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলদীবাড়ী দোলাপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ আলম, নুরুল আমীন ও চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাফফর হোসেন ও শাহাদোৎ হোসেন সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর তারা শতকরা ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি- ৩৪ জাতের ধান চাষ করেছেন। এক সময় অবস্থা সম্পন্ন কিছু কৃষক সুগন্ধি ধানের চাষ করতেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির বলেন, সুগন্ধি জাতীয় ধানের আবাদ পরিবেশ সম্মত এবং অপেক্ষাকৃত কম উর্বর জমিতে ফলে। উৎপাদন খরচ অনেক কম হওয়ায় এ জাতীয় ধান চাষে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই ধানের চাষ করে অনেকেই সফল হচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য