এইচআইভি ও এইডস থেকে মুক্ত থাকতে সচেতনতা তৈরী করতে হবেদিনাজপুর সংবাদাতা॥- এইচআইভি ও এইডস একটি মরণব্যাধি। আর এতে যদি কেউ আক্রান্ত হয় তবে তার মৃত্যু অবধারিত। তাই আমাদের সকলকে এই মরণব্যাধি সম্পর্কে জানতে হবে এবং নিজ নিজ কর্মপরিধির মধ্যে থেকে সকলকে সচেতন করতে হবে। যাতে কেউ নতুন করে এই এইচআইভি ও এইডস-এ আক্রান্ত না হয়। আর এজন্য নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে আমাদের সচেতনতা তৈরী করতে হবে।

২২ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় দিনাজপুর সিভিল সার্জনের শহীদ ডাঃ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে কনটিনিউয়েশন অফ দি প্রায়োরিটাইজড এইচআইভি প্রিভেনশন সার্ভিসেস এ্যামং কী পপুলেশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় ও লাইট হাউস কনসোর্টিয়াম এর আয়োজনে ‘‘দিনাজপুরে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী, ধর্মীয় নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংবেদনশীলতা’’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু রায়হান মিয়া উপরোক্ত কথা গুলো বলেন। সভাটি শেষ হয় দুপুর ২টায়।

লাইট হাউসের প্রধান নির্বাহী জনাব মোঃ হারুন-উর-রশিদ এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ শামীম আরা নাজনীন।
তিনি বলেন, ‘রোগকে ঘৃণা করো, রোগীকে নয়’। তাই ধর্মকে সঠিক ভাবে পালন এবং ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা সাধারন জনগণকে সচেতন করতে পারলে সমাজ যেমন উপকৃত হবে সেই সাথে এইআইভি মুক্ত সমাজ রাখাও সম্ভব হবে।

এর আগে সভায় লাইট হাউস কনসোর্টিয়ামের টীম লিডার জনাব মোঃ সালাহ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম ও বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বর্তমান এইচআইভি ও এইডস পরস্থিতি তুলে ধরেন। লাইট হাউস দিনাজপুর ডিআইসি’র ম্যানেজার জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে উপস্থিত সকলের মাঝে উপস্থাপন করেন এবং সেই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। সেই সাথে উক্ত আলোচনা উপস্থিত সকলকে তাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে এইচআইভি প্রতিরোধে সবার অংশগ্রহন নিশ্চিত করার আহবান জানান।

সভায় শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, আইনজীবি, সাংবাদিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিণিধি, আইন শৃংখলা বাহিনী, সরকারী কর্মকর্তা ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গসহ বিভিন্ন শ্রেনীর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত সকলে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে সকলের সমন্বিত প্রয়াস ও অংশগ্রহন এর উপর জোর দেন। পাশাপাশি হিজড়া ও যৌন পেশায় নিয়োজিত নারী ও পুরুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ অব্যাহত রাখা, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার পাশা পাশি আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করার দাবি জানান আয়োজকরা।

উল্লেখ্য, উক্ত প্রকল্পটি গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে, আইসিডিডিআরবি’র ব্যবস্থাপনায় সারা দেশের ২২ জেলায় বাস্তবায়ীত হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য