Kurigram Map2কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একই নিবন্ধন সনদে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দু’জন শিক্ষকতার আলোচিত ঘটনায় সত্যতা পেয়ে একজনের এমপিও  বাতিলের জন্য সুপারিশ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, উপজেলার চাঁন্দামারী ফাজিল মাদ্রাসায় ২০১৫ইং সনের ফেব্রুয়ারী মাসে মৌলভী শিক্ষক পদে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ (সাবেক) পুত্র আশিকুর রহমানের এমপিও ভূক্ত হয়। তার নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা নিযোগ বোর্ড হওয়ার বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না। চলমান শিক্ষা জরীপ কাজে প্রাপ্ত তথ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ অবগত হন ওই প্রতিষ্ঠানের শরীর চর্চা শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন এবং মৌলভী শিক্ষক আশিকুর রহমানের নিবন্ধন সনদে একই রোল  নম্বর (৩১৮১৮৮০১) সরবরাহ করা হয়েছে।

পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উভয় শিক্ষককে মূল সার্টিফিকেট নিয়ে তার অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলে মৌলভী শিক্ষক তার সার্টিফিকেট দেখাতে ব্যর্থ হন। একারনে গত ৯ নভেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ করেন। এর পর বিষয়টি নানাভাবে তদন্ত শুরু হয়। এরপ্রেক্ষিতে ১৪ নভেম্বর মৌলভী শিক্ষক আশিকুর রহমান লিখিত জবাবে দাবী করেন, তার নিবন্ধন সনদপত্র দিয়ে শরীর চর্চা শিক্ষক জাকির হোসেন চাকুরী করছেন। তবে তিনি ডিসেম্বর মাসের পূর্বে সার্টিফিকেট দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।

শরীর চর্চা শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, চলমান শিক্ষা জরীপ কাজে এমপিও ভূক্ত শিক্ষকদের তথ্য ফরমে আমি দেখতে পারি আমার শিক্ষক নিবন্ধনের রোল নম্বর সহকারী মৌলভী শিক্ষক আশিকুর রহমানের তথ্য ফরমেও সরবরাহ করা হয়েছে। আমি বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। তিনি উভয়ের মূল নিবন্ধন সনদপত্র  নিয়ে অফিসে হাজির হতে বললে আমি আমার মূল সনদপত্র প্রদর্শন করি।

এবিষয়ে ওই মৌলভী শিক্ষক আশিকুর রহমান এ প্রতিনিধিকে জানান,বাবা (সাবেক অধ্যক্ষ) কিভাবে আমার বিল করেছেন তা আমার জানা নেই। সাবেক অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে ফোনে বারবার যোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চাঁন্দামারী ফজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ আক্তার ্আহছান জানান, ২০১৪ ইং সনের ১৮ ডিসেম্বর আমাকে সহকারী অধ্যাপক থেকে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে ও খাদিজা বেগমকে আরবী প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য নিয়োগ বোর্ড ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিয়োগ বোর্ডে অন্য কোন পদের প্রার্থী ছিল না। অথচ ২০১৫ ইং সনের ফেব্রুয়ারীতে মৌলভী শিক্ষক মোঃ আশিকুর রহমানের নাম এমপিও ভূক্ত হয়ে আসে।

১৬ নভেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল কুমার ভৌমিক জানান, জাকির হোসেন এর সার্টিফিকেট সঠিক আছে। মৌলভী শিক্ষক আশিকুর রহমান সার্টিফিকেট দেখাতে ব্যর্থ ও সন্তোশ জনক জবাব দিতে না পারায় এমপিও বাতিল সহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা শিক্ষা অফিসারকে সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য