বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন হাসপাতাল চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধচিকিৎসক কর্মচারীসহ জনবল না থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশনের হাসপাতালটির কার্যক্রম ৬বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে রেলওয়ের হাজার হাজার কর্মচারী ও তাদের পরিবার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের বোনারপাড়া জংশন সেকশনের কর্মকর্তা কর্মচারীও তাদের পরিবারের বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ব্রিটিশ সরকারের আমলে রেল কর্তৃপক্ষ  হাসপাতালটি স্থাপন করে।

হাসপাতালটি শুরু থেকেই একজন্ সহকারী সার্জন (এমবিবিএস), ২জন ফার্মাসিস্ট, ১জন ড্রেসার, ২জন ওয়ার্ড বয়, ২জন আয়া, ৩০জন ক্লিনার, ১জন সেনিটারী পরিদর্শক, ১জন জমাদার, ১জন ওয়াটার ম্যান কর্মরত ছিল। প্রতিদিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসত শতশত রেলকর্মচারী ও তাদের পরিবারে লোকজন।

এছাড়াও রেলের দূর্ঘটনায় আহত রোগীদের হাসপাতালের বেডে রেখে চিকিৎসা সেবা করানো হতো। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কলরবে মুখরিত ছিল হাসপাতাল চত্তর।  কিন্তু বিগত ২০১১ইং সালে তদানিন্তন সহকারী সার্জন ডা. নিলেন্দ্র কুমার ভর্ট্রাচার্য পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় আর কোন চিকিৎসক দেয়া হয় নি এই হাসপাতালটিতে।

এর পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এই হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে করে হাজার হাজার রেলওয়ে কর্মচারী ও তাদের পরিবার চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। অপর দিকে অন্যান্য কর্মচারীরা পর্যায়ক্রমে অন্যত্রে বদলি হয়ে যায়। কেউ বা চলে গেছেন অবসরে। বর্তমানে ২জন অফিসিয়াল কর্মচারী ছাড়া সকল পদই শুন্য রয়েছে।

হাসপাতাল টি সবসময়ই তালা ঝুলানো থাকছে। ওই ২জন কর্মচারী মাঝে মধ্যে এসে কক্ষ গুলো ঝাড়- দিয়ে চলে যায় বলে জানান, রেলওয়ে কর্মচারীরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাঘাটা উপজেলার সাধারন সম্পাদক এবং বোনারপাড়া যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রভাষক শাহ্ আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অবিলম্বে হাসপাতালটি তে জনবল নিয়োগ করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হোক।

হাসপাতার চালু না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলে জানালেন রেল কর্মচারীরা। বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আকবর আলী জানান, এ বিষয়টি রেলকর্তৃপক্ষই ভাল জানেন। লালমনির হাট বিভাগের রেলওয়ে ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য