দুই নবজাতকসহ মায়ের মৃত্যু বদরগঞ্জে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সিলগালাবদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের বদরগঞ্জে সেই অনুমোদনহীন মোখলেছার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের পর গর্ভবতী মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সেন্টারের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবুল কালাম আজাদ সেন্টারের বৈধ কোন কাগজপত্র দেখতে না পেরে সেন্টারের মালিক হাফিজার রহমানের স্ত্রীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং সেন্টারের রেজিষ্টার বই ও রোগী ভর্তির কাগজপত্র জব্দ করেন। ওই সময় আদালতের উপস্থিতিতে সেন্টারে সিলগালা করেন তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি ডাঃ সৈয়দা শাহনাজ নাসরুল্লাহ ইলোরা ।

জানা গেছে, ভ্রামম্যান আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে সেন্টারের মালিক হাফিজার রহমান মুকুল ও চিকিৎসক সটকে পড়েন।

রংপুর জেলা সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়ের নির্দেশে গত শনিবার ডাঃ ইলোরাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের  কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনোয়ারা বেগম  ।

কমিটির অন্য সদস্যরা  হলেন, ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা রাজিব উদ দৌলা, নাসিং সুপারভাইজার মোছাঃ সাজেদা বেগম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম ও সহ-স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুল মান্নান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনোয়ারা বেগম গতকাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কোন কাগজপত্র ও   সেখানে সিজারের কোন পরিবেশ নেই বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। জরুরিবাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশসহ ওই তদন্ত প্রতিবেদন সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

গত শনিবার ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক হাফিজার রহমান মুকুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে ক্লিনিকের কার্যক্রম চালানো ঠিক হয়নি। এটা আমার ভুল হয়েছে।’

দুপুরে রংপুরের সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায় মুঠোফোনে বলেন, আমি নিজেও দু’একদিনের মধ্যে গিয়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার তদন্ত করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালানোর কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সেটি আর কোনভাবেই যাতে চালাতে না পারেন সেই পদক্ষেপ নিব।

গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের জামুবাড়ি সরদার পাড়া গ্রামের দলিল লেখক আব্দুস সালাম সরকারের স্ত্রী আট মাসের অন্ত:সত্ত্বা মাজেদার (৩৪) পেটে ব্যথা অনুভব হলে ওই এলাকার মাহমুদা বেগম নামের এক নারী তাকে দ্রুত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের সার্জারি চিকিৎসক আর এইচ নেওয়াজ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গৃহবধূর পেট থেকে দুইটি সন্তান বের করেন।

তার রক্ত শূন্যতা ও খিচনি দেখা দিলে গৃহবধূসহ দুই নবজাতককে রংপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে চিকিৎসক সটকে পড়েন। ওইদিন দুুপুর দেড়টার দিকে রংপুরে নেওয়ার পথে রাস্তায় মাসহ দুই নবজাতক মারা যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য