arrest Jail 11ওয়েব ডেক্সঃ দিনাজপুরে মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক যুবককে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যার ঘটনার মামলায় ২ জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

মৃত মঞ্জুরুল ইসলাম সদরের শশরা ইউনিয়নের মহতুল্লাপুর গাজারমারি গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে।

এই ঘটনায় নিহতের ভাই মতিউর রহমান বাদি হয়ে বুধবার রাতে শহর যুবলীগের নেতাকর্মীসহ ১১জনের নাম দিয়ে ও অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আটক ২জন হলেন, দিনাজপুর জেলা সদরের খোদমাধবপুর এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে গোলাম মির্জা মামুন (৩৫) ও ৩নং উপশহর এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে মিথুন (৩০)।

পুলিশ জানায়, মঞ্জুরুল ইসলামকে হত্যার ঘটনার ২ দিন পর বুধবার দিবাগত রাতে তার বড় ভাই মতিউর রহমান বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় তিনি  শহর যুবলীগ নেতাকর্মীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামী করেন।

কোতয়ালী থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান, নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার ঘটনার ২ দিন পর তার বড় ভাই কোতয়ালী থানার দ: বি: ৩০২/৩৪ ধারায় এই মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং-১১)। এই ঘটনায় ২জন আসামীকে আটক করে কোতয়ালী থানায় সোর্পদ করেছে র‌্যাব। বাকী আসামীদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে সদর উপজেলার মহতুল্লাহপুর গাজার মারি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম (১৮) খোদমাধবপুর গ্রামের মির্জা মামুনের ট্রাকের হেলপার হিসেবে চট্রগ্রামে যায়। সেখান থেকে আসার সময় রাস্তায় ট্রাকের চালক রেজাউল নেমে যায়। ট্রাকটি নিয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম ফিরে আসে। পরে ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে মঞ্জুরুল ইসলাম বাসায় ফিরেনি।

২৬ অক্টোবর মোবাইল ফোনে জানতে পারে মঞ্জুরুল ইসলাম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। সেখানে গিয়ে তারা মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে জানতে পারেন কয়েকজন মিলে গত ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এবং উপশহর ১ নং ব্লকের বেগম তৈয়বা বেগম রেডক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংকে আটকে রেখে সারারাত ধরে অমানুবিক নির্যাতন চালানো হয়।

পরে ২৬ অক্টোবর সকালে র‌্যাব মাদক নিয়ে কোন ঘটনা ঘটছে মর্মে জানতে পেরে তৈয়বা মজুমদার রেডক্রিসেন্ট রেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বর আহত অবস্থায় মঞ্জুরুলকে সেখান থেকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় কারো কোন অভিযোগ না থাকায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে র‌্যাব জানায়। পরে ২৯ অক্টোবর মঞ্জুরুল ইসলাম প্রাণভয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে যান। এরপর ১ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য