দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরেদিনাজপুর সংবাদাতা ॥ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ইউনিয়ন পর্যায়ে দুই থেকে বিশ বছর যাবত কর্মরত এ.আই টেকনিশিয়ানদের (স্বেচ্ছাসেবী) ইউনিয়ন পর্যায়ে পদ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়োগসহ সকল শূণ্যপদে নিয়োগের দাবীতে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এ,আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি (সাবেক প্রাণিসম্পদ স্বেচ্ছাসেবী সমিতি) বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ ছাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার দাসের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বরাবর দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরে র‌্যালী শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আবু রায়হান মিঞা। এ সময় পার্বতীপুর হাবড়া পয়েন্টের এ.আই টেকনিয়শিয়ান আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ বৃহত্তর দিনাজপুরের (দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়) ১২৭ জন উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরতদের একটি পদ হচ্ছে এ.আই টেকনিশিয়ান (গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পদটির নাম ছিল স্বেচ্ছাসেবী)। মূল কাজ ডাকে আসা গাভী/বকনাকে কৃত্রিম উপায়ে প্রজনন করে গবাদি প্রাণির জাত উন্নয়ন ঘটানো এটি আন্তর্জাতিকভাবে জাত উন্নয়ন ঘটানোর স্বীকৃত পদ্ধতি।

গত ২ থেকে ২০ বছর যাবত বেতন-ভাতাহীন। (যদিও গত ১ জানুয়ারী ২০১৬ইং থেকে মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে)। এই জনবলই দেশের গো-সম্পদের জাত উন্নয়নে প্রধান হাতিয়ার এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রাজস্ব আদায়ের প্রধাস উৎস। টেকনিশিয়ানদের অফিস ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ।

অফিস ফার্নিচার সবই আছে শুধুমাত্র বেতনহীন। দেশে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন কাজের প্রায় ৭০ ভাগই আমাদের দ্বারাই সম্পাদিত হয়ে থাকে। শুধুমাত্র ৫ বছর আমরা বেতন-ভাতা চাইতে পারবো না এমন চুক্তিতে আমাদের ৩টি প্রকল্পে যা আপনার সরকারের মেয়াদে ১৯৯৭ সালে প্রথম শুরু হলেও আজও আমরা বেতনহীন। জাতির মেধা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হচ্ছে দুধ ও মাংস।

বর্ধিত জনগোষ্ঠির চাহিদা মোতাবেক অধিক দুধ, অধিক মাংস উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই সকল কর্মীদের অনিশ্চিত অর্থনৈতিক হতাশার ধাবিত করছে। এখানের আরো উল্লেখ করা হয় যে, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এ সকল জনবলের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এ.আই টেকনিশিয়ান পদ সৃষ্টি করলে গোটা অধিদপ্তরের চেহারা পাল্টে যাবে এবং নতুন কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে।

অধিকার বঞ্চিত ভাগ্যহীন কর্মরত ২৭০০ কর্মীর ভাগ্য আপনার একটি মাত্র নির্বাহী আদেশে পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক অনিশ্চিয়তার মেঘ কেটে যেতে পারে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত এ.আই টেকনিশিয়ানদের (সাবেক স্বেচ্ছাসেবীদের)।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য