Dhan চাল গমসৈয়দপুরে মিলারদের কারসাজির কারণে হু হু করে বাড়ছে চালের দাম, দিশেহারা সাধারণ মানুষ। বর্তমানে সাধারণ মানুষের খাবার মোটা চালের ‘মোটা দরে’ বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। গত কয়েক মাসে মোটা চালের দাম লাগামহীন ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ অস্থির হয়ে উঠেছে। চালের বড় ব্যবসায়ী ও চাল কল মালিকদের কারসাজির কারণে মোটা চালের দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ী ও দোকানীদের সঙ্গে কথা বলে ‘দাম বৃদ্ধির’ এমন তথ্য মিলেছে। সূত্র মতে জানা যায় সৈয়দপুর শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। ক্রেতা সাধারণকে চাল কিনতে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশী গুণতে হচ্ছে। বাজারে এখন মোটা চাল ৪০ টাকার নিচে মিলছে না। পাইকারী বাজারে মোটা চালের ৫০ কেজির বস্তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে মোটা চাল ও চিকন চালের দাম কাছাকাছি পৌছেছে।

সরেজমিনে শহরের চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী বাজারে ৯শ টাকার ৫০ কেজির মোটা চালের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা, বি আর আটাশ ১ হাজার ৬শ টাকার স্থলে, ১ হাজার ৮৫০ টাকা, গুটি স্বর্ণা ১ হাজার ১৮০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৮শ টাকা এবং মিনিকেট ২ হাজার টাকার স্থলে ২ হাজার ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে দামের প্রভাব পড়ায় প্রতি কেজি মোটা চাল ৪০ টাকা, বিআর আটাশ ৫০ টাকা এবং গুটি স্বর্ণা ৪০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।

অসহনীয় দামের কারণে চাল কিনতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে গেট বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, বড় পাইকারী ব্যবসায়ীদের মজুদ থাকলেও বাজারে চালের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচী পুরোমাত্রায় চালু না হওয়ায় চালের দামে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

এ কর্মসূচী চালু থাকলে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ত। ফলে  মিলার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিতে পারত না। তিনি দাম সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে সরকারী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। সৈয়দপুর চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রাজুর দাবি, সরকারী কিছু নীতির সুযোগ গ্রহণ করে বড় বড় অটো মিল মালিকরা চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চালের দাম দফায় দফায় বাড়ছে।

তিনি চালের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, সরকারের মোটা চাল সংগ্রহের নীতিও চালের দাম বৃদ্ধি উসকে দিচ্ছে। শহরের গেট বাজারে চাল কিনতে আসা মো. তৈয়ব নামের এক রিক্সা চালক জানান, দাম কমের কারণে আমরা মোটা চাল কিনে থাকি। কিন্তু মোটা চালের অগ্নি মূল্যে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। সীমিত আয়ে বাড়তি টাকা পাব কই। ১০ টাকা কেজি দরের চালও পাচ্ছি না আমরা। গরীব মানুষকে বাঁচাতে সরকারের উচিত চালের দর কমিয়ে আনা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন চেষ্টা দেখছি না আমরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য