01 মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার সনদ চান সফিয়ার রহমানজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন টগবগে তরুণ মো. সফিয়ার রহমান। কুড়িগ্রাম জেলা সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নের মরাটারী গ্রামের মৃত: সফর উদ্দিন সরকারের পুত্র মো. সফিয়ার রহমানের বয়স এখন ৬৫। যুদ্ধ শেষে নিজের জীবন-জীবিকার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে সফিয়ার। দুর্গম চরাঞ্চলে বাড়ি হওয়ায় আর খোঁজ রাখেনি মুক্তিযোদ্ধার সনদ কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার। ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম উঠেনি। জীবনের পরন্ত বিকালে এসে তার শেষ চাওয়া ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি সনদ।’

সফিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলে আজও স্বীকৃতি পাননি। এখনো তালিকাভুক্ত হতে পারেননি তিনি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাঘুরি করে ফিরতে হয়ছে খালি হাতে। ঘোগাদহ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুল কাদের ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কমান্ডার মো. বাতেনের তদন্ত করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সুপারিশ করেছেন। তিনি আরো জানান, যুদ্ধের শুরুর দিকে ভারতের ঝাউকুঠিতে ‘বাংলাদেশ ইয়ূথ রিসিপশন ক্যাম্পে’ প্রাইমারী ট্রেইনিং গ্রহণ করেন। তার নিকট তৎকালীন এমএনএ সামছুল হুদা স্বাক্ষরিত উক্ত ক্যাম্পের প্রাইমারী ট্রেনিংয়ের সার্টিফিকেট রয়েছে। তিনি ৬ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দাাতা আওয়ামী লীগ সরকার আবারো অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দিলেও দুর্গম এলাকায় বাড়ির অবস্থান এবং অসুস্থ্যতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারেনি তিনি। গত বছর ৩০ জুন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন সফিয়ার রহমান। মন্ত্রণালয় উক্ত আবেদনটি গ্রহণ করেন যার ডিজি নম্বর ২২২০৯। কিন্তু বছর পার হলেও এ ব্যাপারে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি মমতাময়ী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হকের হস্তক্ষেপের আকুতি জানান। এটিই এখন তার জীবনের শেষ ভরসা। অসুস্থ্য ও বৃদ্ধ সফিয়ার রহমান মৃত্যুর আগে দেখে যেতে চান মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। তিনি রোববার (৯ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামে সাংবাদিকদের কাছে এসে মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিয়ার রহমান কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এসময় তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে বাবা-মাকে রেখে ভারতের অসহনীয় দুঃখ কষ্ট সহ্য করে প্রায় অর্ধভুক্ত থেকে ঝাউকুঠি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। পরবর্তীতে সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে আগত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেই। এরপর সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেই। এরপরও স্বীকৃতি মেলেনি। বর্তমানে তিনি স্ত্রী, ৫ পুত্র ও ২ কন্যা নিয়ে দারিদ্র্যতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে পাঠালে তবেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পারবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য