Gai-PIC-আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধা জেলার মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা-২০১৪ এর মোড়ক উন্মেচন অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। জেলার মানবাধিকার পর্যালোচনা সংকলনটির মোড়ক উন্মোচন করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান। উলে¬খ্য, গাইবান্ধা জেলা মানবাধিকার ফোরাম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র এবং আইন ও শালিস কেন্দ্রের সহযোগিতায় এই বার্ষিক পর্যালোচনা রিপোটটি প্রকাশ করেন। জেলা মানবাধিকার ফোরামের আহবায়ক আবু জাফর সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহী, আইন ও শালিস কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সানাইয়া ফাহিম আনসারী ও সমন্বয়কারী তৌফিক আল মান্নান, গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাদুল্যাপুর ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম। পরবর্তীতে উপস্থাপিত মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনের উপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন রাজনীতিবিদ, আইনজীবি, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, নারী নেত্রীসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে অ্যাড. সেকেন্দার আযম আনাম, মোজাম্মেল হক মন্ডল, শাহ শরিফুল ইসলাম বাবলু, সাইফুল আলম সাকা, কেএম রেজাউল হক, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, আনিস মোস্তফা তোতন, আব্দুল লতিফ হক্কানী, মির্জা হাসান, জয়া প্রসাদ, আফরোজা লুনা, অঞ্জলী রাণী দেবী প্রমুখ। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার মুল বিষয়টি হলো সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। স্বাধীনতা পরবর্তী অনেক অর্জন সম্ভব হলেও মানবাধিকার সুরক্ষা, শাসন শোষণ বঞ্চনার কাংখিত লক্ষ্য থেকে এখনও আমরা অনেক দুরে রয়েছি। নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের। সুতরাং রাজনৈতিক ক্ষমতায় যারা থাকেন এক্ষেত্রে তাদের সদিচ্ছা একান্ত অপরিহার্য। রাজনৈতিক নেতারা যদি মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি গুরুত্বারোপ না করেন তাহলে মানুষ তার রাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র স্বীকৃত মৌলিক অধিকার থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হয়। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মানবাধিকার রক্ষায় আন্তারিকভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব রয়েছে তাদের মানবাধিকার সুরক্ষায় আরও আন্তরিক হতে হবে। সে কারণে আইন প্রয়োগকারি সংস্থা সমুহের সুশাসন একান্ত অপরিহার্য। যখন তারা দলীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় তখন তারা তাদের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। ফলে সুশাসন ও মানবাধিকার লংঘিত হয়। এতে দেশের মানুষও এসব প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে। তিনি উলে¬খ করেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদেরও অমানবিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সকলের উপর ন্যাস্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই মানবাধিকার সুরক্ষায় দ্রুত কাংখিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। উলে¬খ্য, গাইবান্ধার মানুষ মানবাধিকার ফোরাম বিগত ৩ বছর যাবত মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বিগত ২০১২ সালে তারা প্রথম জেলার মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা শীর্ষক একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনের সংকলন প্রকাশ করে। এটি তাদের দ্বিতীয় উপস্থাপনা। প্রতিবছর এধরণের পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে বলে মানবাধিকার ফোরাম সুত্রে জানা গেছে। ২০১৩ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি, নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জেলা কারাগার, বিচার ব্যবস্থা ও আইনগত সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার ও জেলার কৃষি পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিস্থিতি পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক সুপারিশ প্রদত্ত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য