01 তেঁতুলিয়ায় নবনির্মিত শহীদ মিনারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগস্বাধীনতার মুক্তাঞ্চল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটির অবস্থা জরাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেশ স্বাধীনের তেঁতুলিয়া থানা সংলগ্ন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পশ্চিম পাশে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটি স্থাপিত হয়। এরপর থেকে এই শহীদ মিনারটিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারী, আন্তজার্তিক মাতৃভাষা ও জাতীয় শহীদ দিবস সহ সকল জাতীয় দিবসে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটির চারপাশে রক্ষণা-বেক্ষনের জন্য কোন বাউন্ডারী ওয়াল না থাকায় গরু, ছাগল উপরে উঠে নোংড়া করে রাখে। এছাড়া অনেক কোচি-কাঁচা শিশু না বুঝেই শহীদ মিনারের উপর জুতা পড়েই চলাফেলা করে। অথচ শহীদ মিনারটি রক্ষণা-বেক্ষণে জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আদৌ সংস্কারের কোন হাত পড়েনি।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায় গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৩০৩ টাকা ব্যয়ে পুরাতন কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটির পাশেই আধুনিক নকশাকারে একটি নতুন কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উক্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এর মাধ্যমে একটি শহীদ মিনারের নকশা ও কাজের কোটেশন প্রস্তুত করা হয়। ওই বছর ০২ জুলাই ২০১৫ সালে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য  বর্তমান পঞ্চগড়-১ আসানের এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধান, কাবিখা প্রকল্পের ০৭ মে.টন ৭১২ কেজি চাউল বরাদ্দ দেন।

যার বাজার মূল্য অনুমান ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৯২টাকা। উক্ত টাকায় নতুন শহীদ মিনারের সিসি রড ও সিমেন্ট ঢালাই দেয়া হলেও অর্থাভাবে অদ্যাবধি আর কোন কাজের অগ্রগতী হয়নি। এদিকে কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় নব নির্মিত শহীদ মিনারটির সিসি রডগুলো মরিচিকা ধরা সহ স্কুলের অবুঝ ছেলে-মেয়েরা রডগুলো ঝুলে বাঁকা করে ফেলেছে। শহীদ মিনারটির এই দুর্দশা দেখে  নবীন-প্রবীণ ছাত্র সমাজ ও সচেতন জনসারণ জেলা প্রশাসক বরাবরে নব নির্মিত শহীদ মিনারটির প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তদন্তপুর্বক নির্মাণের জন্য আবেদন করেছে।

নবনির্মিত শহীদ মিনারের প্রকল্প কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বলেন, আমি এমপি সাহেবের দেয়া বরাদ্দকৃত চাউল বিক্রির টাকার চেয়ে নবনির্মিত শহীদ মিনারের সিসি ঢালাই দেয়া পর্যন্ত ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭.০৯ টাকা খরচ করেছি এবং খরচাদির যাবতীয় বিল ভাউচার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী (এলজিইডি) ও প্রকল্প কমিটি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে সংরক্ষিত আছে। এখানে আত্মসাতের কোন প্রশ্নই আসে না। বর্তমানে বরাদ্দের অভাবে শহীদ মিনারটির নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে।

এব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম (শাহীন) বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি নাজমুল হক প্রধান কর্তৃক স্বল্প বরাদ্দে বিগত অর্থ বছরে নব নির্মিত কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের ব্যক্তিগত তহবিল ও এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন শহীদ মিনারের অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করা হবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলাবাসী নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির অসম্পন্ন কাজ আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী/১৭ খ্রি. পুর্বেই সম্পন্ন করার জন্য পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি সহ প্রধানমন্ত্রীর আশুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য