03 ফ্রান্সের জঙ্গল ক্যাম্পের অভিভাবকহীন শিশুরাফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের ক্যালে ‘জঙ্গলে’ আশ্রয় নেওয়া অভিভাবকহীন শরণার্থী শিশুদের নিবন্ধন শুরু করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

শনিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শরণার্থী শিশুকে যুক্তরাজ্যে আনা হবে।

এর আগে ইংল্যান্ডের শিশু বিষয়ক কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ক্যালে জঙ্গল ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া সিরিয়া ও আফগানিস্তানের প্রায় তিনশ শিশুকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হবে।

এ বছরের শেষে জঙ্গল ক্যাম্পটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।

ক্যালে বন্দরের নিকটবর্তী জঙ্গল ক্যাম্পটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার শরণার্থী বসবাস করছে। চ্যানেল টানেল থেকে ক্যাম্পটির দূরত্ব মাত্র ৩১ মাইল।

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া অনেক শরণার্থী যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য লরিতে করে ক্যালে বন্দর বা চ্যানেল টানেলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এই সব শরণার্থীরাই ক্যালে জঙ্গল ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়।

ক্যাম্পটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইন অনুযায়ী অভিভাবকহীন শরণার্থী শিশুরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে বসবাসের জন্য ইইউ ভূক্ত দেশগুলোতে যেতে পারবে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও নিবন্ধনের সময় অভিভাবকহীন শিশুদের অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

অভিভাবকহীন শিশুদের ক্ষেত্রে দুই ভাগে নিবন্ধন কাজ হচ্ছে।

যেসব শিশুদের যুক্তরাজ্যে স্বজন আছে তাদের এক ভাগে এবং যাদের দেশটিতে কোনো স্বজন নেই তাদের অন্য ভাগে নিবন্ধন করা হচ্ছে।

ইইউ-র নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা সর্বপ্রথম তাদের জন্য নিরাপদ যে দেশটিতে পৌঁছাবে সেই দেশে আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে। কিন্তু অভিভাবকহীন শিশুদের ক্ষেত্রে যে দেশে তাদের স্বজন রয়েছে তারা সেই দেশে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আম্বার রাদ বলেন, সরকার দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে এবং ফরাসী কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পটি বন্ধ করে দেওয়ার আগে যত বেশি সম্ভব শিশুদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে চাইছে।

সরকারের পাশপাশি দাতব্য সংস্থা ‘সেফ প্যাসেস’ ক্যালে জঙ্গল ক্যাম্পের শিশুদের নিয়ে কাজ করছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন পর্যন্ত শিশুদের যুক্তরাজ্যে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো কর্ম পরিকল্পনা তারা দেখতে পাচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য