07 শারদোৎসবেও এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লীতে বিষাদের ছায়াশারদীয় উৎসবের আনন্দমুখর দিনেও এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লী কলকাতার সোনাগাছিতে বিষাদের ছায়া। যে অঙ্গনের মাটি ছাড়া মায়ের মূর্তিই গড়া হয় না সেই অঙ্গনেও ব্রাত্য থেকেছেন দেবী। অথচ যৌনপল্লীর কয়েক হাজার যৌনকর্মী ও তাদের সন্তানরা দুর্গাপূজার আয়োজন করতে তৈরি হয়েছিলেন। চাঁদাও সংগ্রহ হয়েছিল।

মায়ের আরাধনায় তারা লাল পাড় শাড়িতে মন্ডপে এসে ভিড় জমাবেন। আরতি দেবেন। ভোগ বিতরণ করবেন। কিন্তু না। সে সব আশায় জল ঢেলে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সোনাগাছির যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরা দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতির নেতৃত্বে গত তিন বছর ধরে সার্বজনীন পূজার আয়োজন করার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ প্রকাশ্যে প্যান্ডেল করে পূজার আয়োজন করতে প্রতিবারই বাধা দিয়েছে।

গত বছরও শেষ মুহূর্তে পুলিশের আপত্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে পূজার অনুমতি আদায় করেছিল তারা। সাড়ম্বরে পূজা হয়েছিল। কোনও আইনশৃঙ্খলার সমস্যাও তৈরি হয়নি। নিজেদের সেই পূজায় সামিল হয়েছিলেন অন্যান্য যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরাও। কিন্তু এবারও পুলিশের আপত্তিতে যৌনপল্লীতে রাস্তায় প্যান্ডেল তৈরি করে পূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

যৌনকর্মীদের অভিযোগ, কলকাতা শহরের অলিগলিতেও রাস্তা আটকে পর্যন্ত পূজা হচ্ছে। কিন্তু তাদের পূজা করার ক্ষেত্রে অপরাধটা কোথায় সেটাই জানতে চেয়েছেন তারা বারে বারে। প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনও সদুত্তর পান নি তারা। আর তাই পূজা থেকেই অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

আদালতের দ্বারস্ত হয়ে পূজার অধিকার আদায় করতেও এবার তারা আগ্রহী হন নি। যৌনপল্লীতে ঘরোয়াভাবে যে পুজা হতো সেটিও বন্ধ রেখেছেন তারা। দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতির সচিব কাজল বসু জানিয়েছেন, পূজার জন্য বরাদ্দ করে রাখা অর্থ তারা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য