সবকিছু এখন দর্শকের উপর ছেড়ে দিয়েছি ( মাসুমা রহমান নাবিলা )ডাক নাম নাবিলা। পুরো নাম মাসুমা রহমান নাবিলা। প্রাণবন্ত উপস্থাপিকা হিসেবে দর্শকরা তাকে এতদিন ছোটপর্দা আর মঞ্চের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখে আসলেও এবার টিকেট কেটে বড়পর্দায় দেখবেন। বড়পর্দার নতুন যাত্রী তিনি। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর দিনটি তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইদিনে সারাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘আয়নাবাজি’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অমিতাভ রেজা।

দীর্ঘদিন ধরে উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অভিনয়টা এর আগে করা হয়নি নাবিলার। তাই প্রথমবার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জন্য সত্যি এটা একটা ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে সব গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমি ভালো কিছু শেখার পরিবেশ  পেয়েছি।

ঘটনাক্রমে একদিন অমিতাভ রেজা ভাই আমাকে তার ছবিতে অভিনয় করার জন্য বললেন। ছবির চিত্রনাট্য, চরিত্র, পরিচালক সবকিছু মিলিয়ে যখন  দেখলাম পজেটিভ তখন অভিনয়ের জন্য অডিশন দিলাম। এরপর তো কাজ শুরু। শুধু অভিনয়ই না, অনেক কিছুই শেখার সুযোগ হয়েছে। ছবির গল্পে দেখা যাবে, চঞ্চল ভাই ও আমি একই মহল্লায় থাকি। এরপর আমাদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব।

তিনি আরও বলেন, এ ছবিতে আমার চরিত্রের নাম হৃদি। অভিনয় করতে গিয়ে দেখেছি চঞ্চল ভাই অনেক ফ্রেন্ডলি এবং হেল্পফুল। তার সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে আমার। পরীক্ষা দেয়ার পর রেজাল্টের জন্য যেমন অপেক্ষা করতে করতে নাওয়া-খাওয়া, চোখের ঘুম উধাও হয়ে যায় নাবিলার এখন এমনটাই মনে হচ্ছে। তবে ছবিটি নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। বর্তমানে ‘আয়নাবাজি’র প্রচার-প্রচারণা নিয়েই ব্যস্ত আছেন এ অভিনেত্রী। এদিকে নাবিলা জানান, অভিনয়ের প্রস্তাব তার কাছে এটা প্রথম না। এর আগেও অনেক প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি।

তবে সব মিলিয়ে ভালো গল্প, চরিত্র ও পরিচালকের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে ‘আয়নাবাজি’ ছবির গল্প তার পছন্দ হয়। উল্লেখ্য, নাবিলার জন্ম সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে। সেখানে তিনি ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলেন। মূলত বাবার চাকরির সুবাদে জেদ্দায় থাকা হয় তার। জেদ্দা শহরের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন নাবিলা। এরপর ২০০০ সালে দেশে ফিরে এসে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হন।

এছাড়া তিনি রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শোবিজে নানা ক্ষেত্র থাকলেও নাবিলা বেছে নেন উপস্থাপনা। শুরুটা হয়েছিল বাংলাভিশনের ‘এবং ক্লাসের বাইরে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এটা ছিল ২০০৬ সালের ঘটনা। এরপর টেলিভিশনের বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানসহ ‘আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট’ ও ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ’-এর মতো বিশ্বমাতানো আসরগুলোতে নাবিলা উপস্থাপনা করেছেন। সফল উপস্থাপনার পাশাপাশি এ পর্দা কন্যা সার্ফ ব্লেড, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী, বাংলালিংক থ্রি জি, মেরিল লিপ কেয়ার, আমিন জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।

এরমধ্যে তার উপস্থাপনায় অন্যতম অনুষ্ঠান হচ্ছে চ্যানেল আইয়ের ‘সেভেন আপ মিউজিক্যাল প্রিমিয়ার লীগ’। এ অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন তিনি। বড়পর্দায় ছবি মুক্তি পাবার পর অনেকেই নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে নাবিলা এসব নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না। ‘আয়নাবাজি’ ছবিটি ঢাকার সিনেপ্লেক্সগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর বাইরেও মুক্তি পাচ্ছে।

এ ছবি থেকে কেমন সাড়া আশা করছেন জানতে চাইলে নাবিলা বলেন, আমার একটাই আশা। সেটা হচ্ছে এ ছবিতে কাজ করে আমার যতটা  ভালো লেগেছে ঠিক তেমনি দর্শকেরও যেন ভালো লাগে। দর্শকের ভালো লাগলেই আমার পরিশ্রম শুধু না, টিমের সবার পরিশ্রম স্বার্থক হবে। তাই সবকিছু এখন দর্শকের উপর ছেড়ে দিয়েছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য