হারিয়ে যাচ্ছে পীরগঞ্জের রাজা নীলাম্বরের প্রাচীন নিদর্শন সমূহরংপুরের পীরগঞ্জে এক সময় উত্তরবঙ্গের দোর্দন্ড প্রভাবশালী রাজা নীলাম্বরের ঐতিহাসিক নিদর্শন সমূহ দিনের পর দিন হারিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র রাজবাড়ীর ইট-সুরকীর ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন ইতিহাসের তার সাক্ষ্য বহন করছে। শত্রুর আক্রমণ হতে রক্ষার উদ্দেশ্যে রাজার খননকৃত নীরদরিয়া নামক পরিখা ক্রমেই ভরাট হয়ে অপরিচ্ছন্ন এক জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজা নীলাম্বরের রাজবাড়ীর সুবিশার প্রাচীর, রাণীরঘাট সহ কথিত মৃত্যুকূপ হারিয়ে যাবার উপক্রম। চুরি হয়ে গেছে অনেক মূল্যবান সম্পদ।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে দক্ষিণে ১৪ কিঃমিঃ দূরে বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক সংলগ্ন ধাপেরহাট বন্দর থেকে ১০ কিঃমিঃ পশ্চিমে নীলাম্বর রাজার বসতভিটা ও নীলদরিয়ার অবস্থান। জনশ্রুতি রয়েছে, রাজা নীলাম্বর দ্বাদশ শতকে ঐ রাজভিটায় বসেই দোর্দন্ড প্রতাপের সাথে এ অঞ্চলের শাসন কাজ পরিচালনা করতেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজা নীলাম্বর তার রাজভিটাকে মাঝখানে রেখে চারদিকে প্রস্থে ৫’শ গজ করে পরিখা খনন করেন।

যাতে সহজে শত্রু পক্ষ এসে রাজভিটায় আক্রমণ করতে না পারে। তিনি তার নামানুসারে, পরিখাটির নামকরণ করেছিলেন ‘‘নীলদরিয়া’’। পরিখা বেষ্টিত রাজভিটার পাশ ঘেঁষে প্রায় ১ কিঃমিঃ লম্বা ইট-সুরকির ১৪ হাত উচ্চতা ও প্রশস্ত প্রাচীর দ্বারা কঠিন বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল। আজো তার স্মৃতি বিদ্যমান। রাজভিটার পূর্ব-দক্ষিণ পার্শ্বে ছিল রানীরঘাট।

সুন্দর বাঁধানো ঘাটের দু’পার্শ্বে ছিলো ২টি হস্তি মূর্তি। কালের চক্রে ঐ ঘাটের হস্তি মূর্তি ২টি কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রাচীর বেষ্টনীতে ব্যবহৃত লক্ষ লক্ষ ইট-সুরকির, সিংহভাগ উঠিয়ে আশপাশের গ্রামবাসীদের কেউ কেউ তাদের ইটের তৈরির মাধ্যমে আধাপাকা বাড়ির মালিক বনে গেছে। আজও ধ্বংসকৃত ৩০ ফুট উঁচু প্রাচীরের উপরে উঠে চারিদিকে দৃষ্ট্ িদিলে রাজা নীলাম্বরের দোর্দন্ড প্রতাপের কথা-স্মরণ করিয়ে দেয়।

ইতিহাস ও কিংবদন্তী রয়েছে-মুসলিম পাঠান সেনাপতি হযরত শাহ ইসমাইল গাজী (রহঃ) ইসলাম ধর্ম প্রচারে এ অঞ্চলে এসে রাজা নীলাম্বরের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে রাজা নীলাম্বরের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। যুদ্ধে নীলাম্বর পরাজিত ও বন্দী হন। মুসলমানদের হাতে বন্দী নীলাম্বরকে গৌড়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারপর নীলাম্বরের কি পরিনতি হয়েছে তা আর ইতিহাসে খুঁজে পওয়া যায় না। নীলাম্বরের প্রতাপের কথা আজো ঐ এলাকার বয়স্কদের মুখে মুখে। একমাত্র যোগাযোগ অব্যবস্থার নীলাম্বরের রাজভিটায় সহসাই পৌছাতে পারে না কোন পর্যটক কিংবা ভ্রমন বিলাসী মানুষ।

আজ পর্যন্ত এ রাজভিটায় গড়ে উঠেনি কোন ডাকবাংলো। এমনকি প্রতœতত্ত্ব বিভাগের একটা সাইনবোর্ড পর্যন্ত নেই এখানে। ঘড়ির কাটা বন্ধ থাকবে না, চলবে যে হারে নীলাম্বরের স্মৃতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ,আগামী প্রজন্ম হয়তো একদিন অনুমানও করতে পারবে না যে কোথায় নীলাম্বরের রাজধানী ছিল ? অথচ ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক মনোরম দিক বিবেচনা করলে এখানে পিকনিট স্পট গড়ে তোলা সম্ভব। যা থেকে প্রতি বছর সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব বাড়াতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য