ইমামুলকে প্রতিবন্ধী বলো নাদিনাজপুর সংবাদাতাঃ প্রতিবন্ধী হলেও মানসিক ভারসাম্যহীন খুব একটা তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না। প্রতিবন্ধী হয়েও মোঃ ইমামুল ইনাম কম্পিউটার ও সফ্টওয়ার এবং টেকনোলজি কাজে পারদর্শী। মোবাইল, ফেসবুক, লেপটপ, কম্পিউটার গেম সবই তার নখদর্পনের। শুধু তাই নয় ক্রিকেট খেলায় তার জুরি নেই, সে ফুটবল খেলতেও ভালোবাসে।

বয়স মাত্র ১২ বছর। দিনাজপুর শহরের গনেশতলার গাউসতলা জামে মসজিদ “সংলগ্ন নিউ ট্রেড প্রিন্টার্স” এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ মিরান আলী’র প্রথম পুত্র মোঃ ইমামুল ইনাম। সেই ঘাষিপাড়া সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণীতে পড়া লেখা করে। স্পষ্ট ভাবে কোন কথা বলতে পারে না, ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে কথা বলে। তার কথা কেউ বুঝতে না পারলেও তার পরিবারের লোকজন এবং বন্ধুরা তার ভাষা বোঝেন। তার একটা ডিজিটাল ক্যামেরা আছে, সারাদিন সেই ক্যামরা দিয়ে ছবি তুলে ইমামুল ইনাম। ছবির ফ্রেম ও ছবির বিষয় বস্তু নির্বাচন করতে খুব পারদর্শী ইমামুল। বাবা মোঃ মিরান আলী ও ইয়াসমীন বেগম’র খুব আদরের সন্তান সে।

তাই বলে ছোট মেয়ে মেহেজামীন লায়লা সিমরানকে তার পিতা-মাতা কম ভালোবাসেন এ কথা ভাবলে ভুল করবেন পাঠকবৃন্দ। দুই সন্তানই পিতা-মাতার খুবই আদরের সন্তান। তার বাবা এবং মায়ের সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে বা কেউ উচ্চ স্বরে কথা বললে ইমামুল উত্তেজিত হয়ে উঠে, আবার কখনও কখনও তাকে আক্রমন করে বসে। বন্ধুরা কেউ প্রতিবন্ধী না থাকলেও ইমামুল ছাড়া তাদের খেলা জমে না। সে বাড়ীতে তার মাকে কাজে সহযোগীতা করে।

কোন কাজ করতে বললে সে কাজ সুষ্টভাবে করে দেয়। তার কথার বৈশিষ্ট এক কথা একাধিকবার উচ্চারন করতে থাকে। অবসর সময়ে বোনকে নিয়ে সে টিভি দেখে। তার প্রিয় ছবি “কার্টুন”। প্রচন্ড স্বরন শক্তির অধিকারী ইমামুল ইনাম। কোন কথা সে ভোলে না, বহুদিন পর্যন্ত তার মনে থাকে। একবার কাউকে দেখলে তার স্মৃতিপটে খোদায় করে আঁকা থাকে। চলন ফেরন দৃষ্টি চাহনি সবকিছুর মধ্যে রয়েছে অস্বাভাবিকতা। সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী, মায়াবী চাহনী। হাস্যজ্জল দুটি ঠোঁট। দুটি চোখ যেন কি খুজে সারাক্ষন। সবসময় চঞ্চলতা এবং অস্থিরতা তাকে ঘিরে রাখে।

জন্মের ৬মাস পর পিতা-মাতা তার অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। তারপর বুঝতে পারেন যে, আর দশটা ছেলে থেকে সে একটু ভিন্ন প্রকৃতির ইমামুল। তারপর তার প্রতিবন্ধী ও মানষিক ভারসাম্যহীনতা ধরা পরে। ছেলে বেলা থেকেই তার চিকিৎসার কোন ত্র“টি করেনি পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যরা। নিউরোলজি হাসপাতাল, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল অটিজিম সেন্টারসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী হাসপাতালে তার চিকিৎসা করেছেন এবং এখনও চলছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ইমামুলকে প্রতিমাসে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য