৬মাস পর কবর হতে বৃদ্ধের মরদেহ উত্তোলনসাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) থেকেঃ দীর্ঘ ৫মাস ১৯দিন পর কবর হতে আব্দুল লতিফ (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে  আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে তার মরদেহ উত্তোলনের পর কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাধন কুমার বিশ্বাস এর উপস্থিতিতে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কর্ত্তিমারী বাজার কেন্দ্রিয় কবরস্থান হতে ওই বৃদ্ধের মরদেহ উত্তোলন করে রাজিবপুর থানা পুলিশ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল-আমিন মাসুদ, রৌমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলী, রাজিবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গাবুর আলী সরদার, রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান, যাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সবুজ, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, নিহতের ছেলে গোলজার হোসেন প্রমুখ।
৬মাস পর কবর হতে বৃদ্ধের মরদেহ উত্তোলন
রাজিবপুর থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) গাবুর আলী সরদার জানান, মামলা হওয়ায় আদালতের নির্দেশে আব্দুল লতিফের মরদেহ কবর হতে উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে দেহাবশেষ ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই প্রথম কোনো ব্যক্তির মরদেহ উত্তোলন করার খবরে সকাল থেকেই হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করে কর্ত্তিমারী বাজার কেন্দ্রিয় কবরস্থান এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, গত ১৭ মার্চ দুপুর ১টার দিকে দুর্গম এলাকা রাজিবপুরের কোদালকাটি ইউনিয়নের চর সাজাই উত্তর মন্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ তার নিজ গোয়ালবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় বৃদ্ধ আব্দুল লতিফকে ঘরের ভিতর আটকে বাইরে থেকে অগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় পুড়ে যায় আব্দুল লতিফের শরীরের বেশিরভাগ অংশ।

পরে স্থানীয়রা তাকে  উদ্ধার করে ওই দিনই রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১৮ মার্চ তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করে চিকিৎসক। পরে ৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল লতিফ। ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে গোলজার হোসেন বাদী হয়ে রাজিবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে নিহতের ছেলে গোলজার হোসেন বাদী হয়ে পাশের উপজেলা চিলমারীর অষ্টমিরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর এলাকার মৃত নওশের আলীর ছেলে শাহাদৎ হোসেনসহ (৪৮) মোট ১২ জনকে আসামি করে কুড়িগ্রাম কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য