আনোয়ার হোসেন, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাও : তথ্য প্রযুক্তির সভ্যতা আবির্ভাবের পাশাপাশি আইন কানুন নিয়ম নীতির দায়বদ্ধতা জুড়ে দেয়া হয় রাষ্ট্রীয় কাজসহ সর্বস্তরে। প্রতিটি কাজে মূলত জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রতি গুরুত্ত্ব দেয়া হয়েছে। আর একে অপব্যবহার করছে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র। তৈরী করা হচ্ছে ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র। ৩০-৪০ টাকার বিনিময়ে কম্পিউটার ফটোকপির দোকানে তৈরী করা হচ্ছে ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র। ভ্রাম্যমান মোবাইল সীম বিক্রেতারা এসব ভূয়া কাগজ তৈরীর কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকে। মাত্র ৭০-৮০ টাকায় সীমা পাওয়ার জন্য এক শ্রেণীর নোংরা মনের গ্রাহক ভূয়া কাগজ তৈরী করে সীম ক্রয় করে থাকে। ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে প্রকাশ্যে মোবাইল ব্যাংকিং এর এ্যাকাউন্ট খোলা এবং সীম বিক্রয়ের কাজ চলছে। ফটোকপি দোকানের এক কর্মচারী জানায়, সীম কার্ড বিক্রেতারা গোপনে ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করে নিয়ে যায়। এসব অবৈধ কাগজ পত্র ব্যবহার করে অপরাধ চক্র সক্রিয়ভাবে তাদের কাজ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এব্যাপারে ভূক্তভোগী ইমরান বলেন কিছুদিন আগে আমি নতুন একটি সীমে বিকাশ এ্যাকাউন্ট খুলে নিয়মিত লেনদেন করি। হঠাৎ ভুল নম্বরে অন্যত্র আমার ৮ হাজার টাকা চলে যায়। গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় ওই হিসাব নম্বরটি ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে খোলা ছিল। আরেক ভূক্তভোগী ফারুক জানায়, নতুন সীম কিনে অল্প দিনে তা বন্ধ হয়ে যায়। গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে জানতে পারি আমার সীম নম্বরটি অন্যত্র কেউ উঠিয়ে নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীম বিক্রেতা জানায়, একটি জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে কয়েক’শ মোবাইল ব্যাংকিং এ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এতে কারো কোনদিন অসুবিধা হয়নি। রাণীশংকৈল থানার এস আই ফজলু জানান, আমরা শুনেছি, অসাধু চক্রটি ধরার জন্য জোর তৎপরতা চলছে।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সঠিক জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে মোবাইল সীম ক্রয়-বিক্রয় ও মোবাইল ব্যাংকিং এ্যাকাউন্ট খোলার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, ভূয়া পরিচয় পত্র তৈরী ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার কারীদের ভ্রাম্যমান আদালতের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য