কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ এবং কুড়িগ্রাম জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির হিস্যা নিয়ে দ্বন্দে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে দুরপাল্লার বাসসহ লোকাল বাস চলাচল। এতে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে কুড়িগ্রাম উত্তরের তিন উপজেলা নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ীর মানুষ। বাস বন্ধের কারণে বিশ্ব ইজতেমায় যেতে পারছে না অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুছল্লি। এ গ্রুপ দু’টির দ্বন্দের কারণে দীর্ঘদিন থেকে এ রুটে বন্ধ রয়েছে ভূরুঙ্গামারী-রংপুর মেইলবাস সার্ভিস। ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম রুটে দুই গ্রুপের ৪৮টি লোকাল বাস নিয়মিত চলাচল করত। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ১৬টি এবং জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ৩২টি বাস। জানা যায়, জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ৩২টি বাস প্রতিদিন ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডে রাত্রীবেলা থেকে সকালে একের পর এক যাত্রী নিয়ে কুড়িগ্রাম চলে যায় এবং বিকেলের দিকে আবারও ভূরুঙ্গামারী স্ট্যান্ডে ফিরে আসে। জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের দাবী তাদের মালিকানার বাসগুলো দিনের মধ্য সময়ে রুটে চলাচল করায় প্রতি টিপে লোকসান গুণতে হয়। এ কারণে তাদের বাসগুলো ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডে থেকে সকাল বিকালের টিপগুলো ধরতে চায়। কিন্তু এতে রাজি হচ্ছেনা। অন্য গ্রুপটি। তাই গত ২২জানুয়ারী এ গ্রুপটি তাদের বাসগুলো রুট থেকে তুলে নিয়ে অন্য গ্রুপের বাসসহ এ রুট দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলাগামী দুরপাল্লার বাসগুলো কুড়িগ্রামে চলাচল বন্ধ করে দেয়। দিবা-রাত্রীকালীন দুরপাল্লার বাস কাউন্টার থেকে জানা যায়, এ তিন উপজেলা থেকে প্রায় শতাধিক দুরপাল্লার বাস চলাচল করে প্রতিদিন। চারদিন থেকে এ বাসগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার যাত্রীরা যেতে পারছেনা। অনেকে এখান থেকে অটোবাইকে করে কুড়িগ্রাম গিয়ে তারপর বাসে উঠে যাচ্ছে। অনেক সময় অনেক যাত্রী টাকা খরচ করে কুড়িগ্রাম গিয়ে সময় মত পৌছতে না পারায় ফিরে আসতে বাড়িতে। এতে আর্থিক ক্ষতি এবং দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে তারা। কুড়িগ্রাম জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন সাহা জানান, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ একতরফা সিদ্ধান্তে রুট থেকে নিজেদের বাসগুলো তুলে নিয়ে আমাদের বাসসহ দুরপাল্লার বাসগুলো চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমান বকসী বলেন দুই গ্রুপের সাংগঠনিক কিছু চাওয়া পাওয়া নিয়ে দ্বন্দে এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বাস চালাব না। জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২৩জানুয়ারী কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলেও বর্তমান পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য