অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সমঝোতাসিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব শহরে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবন থেকে আহত এক শিশুকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গতকালের ছবি l এএফপিসিরিয়া অস্ত্রবিরতি নিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জেনেভায় আলোচনার পর এই সমঝোতার ঘোষণা দেন।

সমঝোতার শর্ত হিসেবে কাল সোমবার থেকে এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে। সিরিয়ার প্রধান বিরোধী জোট, তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বেশ কিছু দেশ ও সংগঠন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।

রাশিয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থক। আর যুক্তরাষ্ট্র আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে থাকে। বিদ্রোহীদের মধ্যপন্থী বলে মনে করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া যদি তার মিত্র প্রেসিডেন্ট আসাদকে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত করাতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে একটি সমন্বয় কমিটি করবে। এই কমিটির গঠিত ইউনিট সিরিয়ায় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাবে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ বলেন, ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে একযোগে হামলা চালাতে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী এই হামলা চালাবে। যেসব এলাকায় হামলা চালানো হবে তাও নির্ধারণ করেছি আমরা।’

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা অনুযায়ী, বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পো থেকে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী চলে আসবে। এর ফলে সেখানে অবরুদ্ধ লোকজনকে জরুরি ত্রাণসহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেও বিমান হামলা চালানো বন্ধ করে দেবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আল-কায়েদা সমর্থক আল-নুসরা থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখবে। বিভিন্ন এলাকায় আসাদবিরোধী লড়াইয়ে এসব বিদ্রোহী জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে অংশ নিয়েছে।

রাশিয়া এবং তার মিত্র আসাদ সরকার যদি সমঝোতার শর্ত মেনে সাত দিন যুদ্ধ বন্ধ রাখে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একযোগে আইএস ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে। তবে লাভরভ বলেছেন, সব পক্ষই যে শর্তের শতভাগ মেনে চলবে, এমন নিশ্চয়তা রাশিয়া দিতে পারে না। তবে তিনি বলেন, এই সমঝোতার বিষয়টি আসাদ সরকারকে জানানো হয়েছে। তারা তা মেনে নিতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তত্ত্বাবধানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি করেছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই তা মেনে চলেনি।

জন কেরি ও লাভরভের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সিরিয়ায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হলো। পাঁচ বছর ধরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। একই সঙ্গে দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষই হয়েছে গৃহহারা।

সমঝোতার পর যুদ্ধ বন্ধের আশা প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতা পরিকল্পনার পর আমি আশা করছি সন্ত্রাস কমবে, ভোগান্তি কমবে মানুষের। এর ফলে সিরিয়ায় শান্তি স্থাপন ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের জন্য পথের সন্ধান পাওয়া যাবে।’

প্রেসিডেন্ট আসাদের ক্ষমতায় থাকা বা না থাকা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ও রাশিয়া ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। পশ্চিমারা চায় আসাদ ক্ষমতা থেকে আগে সরে দাঁড়ান। তবে রাশিয়া আসাদকে ক্ষমতায় রেখেই আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।

লাভরভ ও কেরি বলেছেন, তাঁদের নতুন এই সমঝোতার ফলে যুদ্ধ বন্ধ করার এক বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য