রাণীশংকৈলে ধান ক্ষেতে আম বাগান করার হিড়িকরাণীশংকৈল প্রতিনিধিঃ- ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা জুড়ে ধান ক্ষেতে আম বাগান করার প্রতিযোগিতা চলছে। রৌদ্রের তাপদাহ আর বৃষ্টির প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে রোদে আগুনে পুড়ে ধান, বেগুন, কপি, করল্লাসহ নানা জাতীয় ফসল আবাদ করে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষক এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের নায্য মুল্য না পেয়েই লাভজনক ব্যবসা হিসেবে আম বাগান তৈরীর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দৃঢ়ভাবে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় ফসলি জমিতে আম বাগান লাগানোর হিড়িক পড়েছে। যেসব জমিতে যুগ যুগ ধরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে সেসব জমিতে এখন ধান সারিসারি বিভিন্ন উন্নত প্রজাতের আম গাছ লাগানো হয়েছে। এ কারণে উপজেলায় দিনের দিন ধানের জমি সহ কাঠ ফসলের জমি কমে যাচ্ছে। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এ জেলায় যে ধানের আবাদ হয় এতে ঠাকুরগাও জেলায় চাহিদা পূরণ হওয়ার পর বাইরের জেলাগুলোতে পাঠানো হয়, তবে এভাবে ফলজ গাছ ফসলি জমিতে লাগাতে থাকলে সে আশা করা যাবে না। কুমোরগঞ্জের ধান চাষী সফিউল্লাহ জানান, এক একর ফসলী জমিতে এবার আম্রপালী আম গাছ লাগিয়েছেন।

তিনি কৃষি কাজ করে লাভের মুখ দেখতে না পেয়ে উপর্যূপরী লোকসানের হিসেব গুনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সরকার ন্যায্য মূল্যে ধান কেনার ঘোষনা দিলেও আমরা সেখানে কোন সুযোগ পাই না সব চলে যায় কতিপয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিকব্যক্তি সহ সুবিধা ভোগীদের পকেটে। তাই লোকসানের হিসেব আর না গুনে ফসলী জমিতে লাভজনক আম বাগান তৈরী করছি। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা জুড়ে একই দৃশ্য দেখা যায়। চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে ফসল আবাদ করে শুধু লোকসান হচ্ছে। আমরা আর ক্ষতির শিকার হতে চাই না। আম চাষে বেশ লাভ জনক ব্যবসা তাই আমরা আম বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি।

অনেক চাষী বলেন, অল্প একটু জমিতে আগামীবার শুধু বাড়ির চালের জন্য একটু ধান চাষ করবো। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শংকা করছেন, ফসলি জমিতে এভাবে আম বাগান তৈরী হতে থাকলে আবাদী জমি কমে গিয়ে ধান, ভুট্টা, আলু, বেগুনসহ নানা জাতীয় ফসলের উৎপাদন কমে যাবে। এতে করে উপজেলায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিলে অন্য জায়গা থেকে বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হবে। তাতে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ঠাকুরগাও জেলা জুড়ে ধানী জমিগুলোতে আমবাগান করার হিড়িক দেখা যাচ্ছে।  এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাজেদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে নতুনভাবে আম বাগান লাগান হয়েছে। ফসলী জমিতে আম বাগান হলেও উঁচু ও অনাবাদী জমিগুলোতেও আম বাগান লাগানোর প্রবণতা বেড়েছে। সুধিমহল মনে করেন কৃষির উপর সরকারি সুযোগ সুবিধা সঠিকভাবে কৃষকের দোরগোড়ায় না পৌঁছালে ফসলী জমিতে বাগান করা থেকে কৃষককে ফিরানো সম্ভব নয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য