অস্ট্রেলিয়াকে অবশ্যই চীন অথবা যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিতে হবেঅস্ট্রেলিয়াকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী জোট অথবা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলীয় ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অব স্টাফ কর্নেল টম হ্যানসন।

পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চীনের দাবির বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি অস্ট্রেলিয়ার মনস্থির করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধতার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা বেশ কঠিন।

“অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থের জন্য কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে,” বলে তিনি জানান এ দৃষ্টিভঙ্গী একান্তই তার নিজস্ব, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দৃষ্টিভঙ্গীকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উদ্দেশ্য সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়ে অস্ট্রেলীয় আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে একটি পার্লামেন্টারি বুকলেট প্রকাশ করার পর এ মন্তব্য করলেন তিনি।

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপগুলোর আকাশে গোয়েন্দা বিমান পাঠানো ও ও্ই সাগরে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে সমর্থন করে চীনের সমালোচনার মুখে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়া।

এরপর অস্ট্রেলিয়া নিজে থেকে ওই সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় নিজেদের কোনো জাহাজ পাঠায়নি। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপের মুখপাত্রও কোনো মন্তব্য করেননি।

“পরিষ্কারভাবে এতে চীন ধারণা করেছে যে তার একটি সুযোগ আছে এবং নিজেদের ওই দাবিটি অগ্রাহ্য করার মতো শক্তিমান বলে অনুভব করেছে,” বলেন তিনি।

চীন, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিদেশি বিনিয়োগের এক বড় উৎস। ২০১৫ সালে দেশটিতে ১১ দশমিক ১ বিলিয়ান ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য