সন্তান বিক্রির টাকায় খাবার বসতঘরসাখাওয়াত হোসেন সাখা,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) থেকেঃ অভাবের তাড়নায় ২২ দিনের বন্যাকে বিক্রি করলেন মা। বুকের ধনকে বিক্রি করে এখন গোটা পরিবারে নেমে এসেছে শোক। কিন্তু করার যেন কিছু নেই। অন্য সন্তানদের মুখে খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এমন অবস্থা বন্যাদের। ফলে বন্যাকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। অবশেষে ৩৫ হাজার টাকায় বন্যাকে কিনে নেন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরের চর এলাকায় দেলোয়ার ও পানফুল দম্পতি। বুকে আশা বন্যা ভাল থাকবে। পাশাপাশি সন্তান বিক্রির টাকায় অন্যের ভিটায় একটি ঝুপড়ি তুলছেন মাথা গোঁজার জন্যে। এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার রৌমারী উপজেলার বারবান্দা গ্রামে। ভাগ্যহত ওই মায়ের নাম রেবি খাতুন ও বাবা গোলাম মোস্তফা।

“কি করুম, অভাবের তাড়নায় বাড়ির পাশে এমপি’র বাইত্তে গেছিলাম। হ্যায় কইলো, সাইকেল মার্কায় ভোট দেসনাই তোরে কিছু দিবার পারুম না। এতো বাচ্চা নিছোস কেন? দুডা এডা বেইচ্চা দে গা। হেরপর থাইক্যা বুকের ধন বন্যারে বিক্রি কইরা দেওনের কথা বলি। যারা নিছে হেরা ভালা মানুষ। আমার বন্যা সুখেই থাকবো। কিন্তু কি আর করা, রাতে গুম হয় না। বুকটা খচ্ খচ্ করে। ট্যাকার জন্যি মাইয়াডারে বেইচ্চা দিলাম?” ওইদিন বারবান্দা গ্রামে গেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশু বন্যার মা রেবি খাতুন কথাগুলো বলছিলেন।

উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম উত্তর বারবান্দা এলাকার নবিন মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন রেবি খাতুন। বিয়ে হয়েছে পাশের জেলা জামালপুরের গোলাম মোস্তফার সাথে। এর আগে রেবি খাতুনের প্রথম বিয়ে হয় নিজ গ্রামের ছাত্তারের ছেলে কলিমউদ্দিনের সাথে। গরিব ও দেখতে মন্দ  বলে স্বামী সংসার বেশিদিন টেকেনি তার। ঘরে মরিয়ম (৮), জিহাদি (৬), মৌসুমী (৪) ও এক মাস বয়সের মোর্শেদা আক্তার বন্যা নামে ৪ সন্তান জন্ম হয় তার। এছাড়াও ঘরে বৃদ্ধ মা জমেলা খাতুন, স্বামী গোলাম মোস্তাফাসহ পরিবারটির মোট সদস্য সংখ্যা ৭জন। এদের মধ্যে বড় মেয়ে মরিয়ম ঢাকায় অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। মা জমেলা খাতুন ভিক্ষাবৃত্তি করেন। নিজেও অনেক সময় অন্যের বাড়ি হতে চাল কুড়া চেয়ে সংসার চালান। স্বামী গোলাম মোস্তফা তেমন কোনো কাজ কাম করেন না। সংসার ভাঙার ভয়ে জোর করে কিছু বলতেও পারেন না।

নবিন মিয়ার স্ত্রী ময়না বেগম জানান, রেবিরা খুবই গরিব। আমাদের জায়গায় রেবি’র বাবা মৃত আব্দুর রাজ্জাক ও মা জমেলা খাতুন কয়েক বছর ধরে ছোট একটা ঘর তুইলা কোনো মতে বাস করছেন। এরমধ্যে রেবির বাবা মারা গেলে মা জমেলা খাতুন মেয়েকে নিয়ে এখানে থাকতেন। ৩ বছর আগে স্বামী সন্তানসহ রেবি খাতুন চলে আসেন বৃদ্ধ মায়ের কাছে। এমনিতে থাকার জায়গার সমস্যা। পরে তাদের থাকার জন্য নিজের ঘরটি ছেড়ে দিয়ে একই গ্রামের হাসিবুল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকেন ওই বৃদ্ধা।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও ওই গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন বিষয়টি পাশ কাটিয়ে বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য