কাহারোলে ফসল রক্ষায় পাচিং পদ্ধতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছওয়েব ডেস্কঃ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেত রক্ষার জন্য কৃষকেরা টি পাচিং পদ্ধতির ব্যবহারে ঝুকে পড়েছেন। এলাকার কৃষকেরা আমণ ধান ক্ষেতে বিক্ষিপ্ত ভাবে পুতে দিয়েছেন বাঁশের তৈরী টি পাচিং। যাতে টি পাচিং এর উপর বন্ধু পাখিরা বসে ক্ষতিকর পোকাগুলোকে সহজেই ধরে ক্ষেতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় এবার চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে তের হাজার পাঁচশ পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে তের হাজার আটশ পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। কিন্তু এবার উপজেলায় প্রায় জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হতে রক্ষার জন্য টি পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন ঐসব কৃষকেরা।

আমন ধান ক্ষেতের ভিতরে একর প্রতি অর্থাৎ ৩বিঘা ধানের জমিতে ১৩-১৪টি পাচিং বিক্ষিপ্ত ভাবে পুতে দেওয়া হয়েছে। এসব টি পাচিং বাঁশের বাতা দিয়ে ইংরেজি বর্ণ (ঞ) টি এর মত করে ৬/৭ফিট উচ্চতা মাপে তৈরী করা হয়। আর তাতে বন্ধু পাখিরা বসে জমির ক্ষতিকর পোকাগুলোকে খেয়ে ফেলেছে। একদিকে পরিবেশ দূষনকারী কীটনাশকের ব্যবহার কমেছে অন্য দিকে কৃষকেরা মোটা অংকের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এই জন্য এলাকার কৃষকদের কাছে টি পাচিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এই বিষয়ে উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম এর সাবেক ইউ,পি সদস্য সালে উদ্দীন জানান চলতি মৌসুমে তিনি পনের বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছেন। ধান চাষের জন্য প্রতি বছর ৬/৭ হাজার টাকার কীটনাশক কিনে থাকেন, তবে এ বছর তিনি টি পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় জমিতে এখন পর্যন্ত কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি। পাশাপাশি ফসলে কোন পোকা আক্রমণ করেনি।

কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শামীম হোসেন বলেন, এলাকার কৃষকেরা যে যার মত করে আমন ধান ক্ষেতে টি পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, আমার বিশ্বাস সেই সব ধান ক্ষেতে কোন প্রকার পোকা থাকবে না। সেই সাথে আমন ধান ক্ষেতে ফলন অনেক বেশি হবে। তবে ফসল যাই হোক না কেন সেটা হবে বিষ মুক্ত। তিনি আরও জানান টি পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকদের সহযোগীতা করে আসছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য