Mamla মামলানীলফামারীতে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অপর দুই সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিযাতি, প্রতারনা ও সরকারী অর্থ আত্বসাৎ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্য ও সংক্ষুদ্ধ এক কৃষক বাদী হয়ে নীলফামারী জজ আদালতে পৃথক পৃথকভাবে এ মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলা নং-০৭/১৬ ও ০৮/১৬। বিজ্ঞ আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন সমঞ্চিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুর বরাবরে প্রেরন করেছেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলার ঘটনা দুটি ঘটেছে জেলার ডিমলা উপজেলার টেপা খড়িবাড়ী ইউনিয়নে।

মামলার বিবাদীরা হলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন ও ওই ইউনিয়নের অপর দুই জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় ও আবুল কালাম আজাদ। ওই ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের জেলা জজ আদালতে দায়ের করা একটি মামলার বিবরনে জানা যায়, তিনি পর পর তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। ২০১৫ সালে ওই ইউনিয়নে ত্রান ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রনালয় হতে সিডিএমপি এনপিএল-০২১৪০১৫ প্রকল্পের অধীনে রাস্তা কাম বাধ, তিস্তা নদীর পশ্চিম তীরে ২০০০ মিটার মাটির বাধ নির্মানের জন্য ৩৩লক্ষ ৭৪হাজার ৮শ ৬৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

বিধি অনুযায়ী কোন ইউপি সদস্যকে তিনি কমিটিতে রাখেননি। তিনি ভুয়া কমিটি তৈরী করে ১০০ দিনের কর্মসৃজনের শ্রমিক দিয়ে রাস্তার নামকা ওয়াস্তে মাত্র ৪৫০ মিটার কাজ করেন। এ কাজে তিনি জালিয়াতির মাধ্যেমেই সমুদয় টাকা আত্বসাৎ করেন। অপরদিকে একই ইউনিয়নের সংক্ষুদ্ধ এক কৃষক বাদী হয়ে সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ ও কৃষি বিভাগ কতৃক প্রকৃত কৃষকের মাধ্যমে ধান গম ক্রয় না করে ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত অপর দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার যোগ সাজশে কৃষকের ভুয়া তালিকা তৈরী করে নিজেরাই সরকারের কাছে ধান গম বিক্রি করেন বলে আদালতে অপর একটি মামলা দায়ের করেন। তাদের এহেন এ কর্মের ফলে ওই ইউনিয়নের প্রকৃত চাষীরা বঞ্চিত হয়েছেন। কৃষকের দায়ের করা এ পৃথক মামলার বিবরনে জানা যায়, ওই ইউপি চেয়ারম্যান কৃষকদের ধান গম বিক্রয়ের তালিকার স্লিপ না দিয়ে পাল্লাভুক্ত প্রজাদের নামের ভুয়া তালিকা তৈরী করেন।

চেয়ারম্যান কতৃক সরকারের কাছে ধান গম বিক্রির তালিকা জমা দেয়া এসব ব্যাক্তি কোন প্রকার আবাদের সাথে জড়িত নয় এবং তারা চেয়ারম্যানের তৈরী করা তালিকানুযায়ী ভিজিএফ সুবিধাভোগী। অপরদিকে ভিজিএফ তালিকায় তাদের নাম থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তারা কখনোই ভিজিএফ এর চাল পায় নি। এসব ভুয়া ও ভূমিহীন একই ব্যাক্তির নামে ভিজিএফ, ধান ও গমের স্লিপ তৈরী করে নিজেই ধান ও গম সরকারের কাছে বিক্রি করেন। ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায়, আবুল কালাম আজাদ ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান একই ব্যাক্তির নামে ধান, গম ও ভিজিএফ’র তালিকা তৈরী করে প্রতারনা ও জালিয়াতির মাধ্যেমে অর্থ আত্বসাৎ করেছেন।

এ অবস্থায় প্রকৃত কৃষকেরা তাদের জন্য সরকারের দেয়া সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়েছেন। এসব বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন ব্যাবস্থা না নেয়ায় তারা আদালতের শরনাপন্ন হয়েছেন বলে মামলার বিবরনে প্রকাশ। এ ব্যাপারে টেপা খড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, আমি ওই প্রকল্পের কোন টাকা এখনও তুলিনি, তাই আত্বসাতের প্রশ্নই উঠেনা। আর ধান গম ক্রয়ের তালিকায় চেয়ারম্যানের কোন হাত নেই এসব কাজে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য