মধ্যপাড়া পাথর খনিতে দ্রুত গতিতে প্রতিস্থাপন করা হছে বিশ্ব মানের উৎপাদন যন্ত্র ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিঘৃ প্রতিক্ষার পর আলো ফিরে পাচ্ছে, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিটি, দ্রুত গতিতে চলছে বিশ্বমানের উৎপাদন যন্ত্র, প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেই আবরো পুরোদমে শুরু হবে পাথর উত্তোলন। উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে গত ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়, খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান র্জামানিয়া ট্রাষ্ট কনসোডিয়াম জিটিসি। এর বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্বমানের উৎপাদন যন্ত্র আমদানী করে এখন প্রতিস্থাপনের কাজ করছে।

জিটিসি’র মহাব্যবস্থাপক জামিল আহম্মেদ বলেন, কানাডা, বেলারুশ, জার্মানি, রাসিয়া, পোলান্ড, ইউক্রেন, চায়নাসহ প্রায় ২০/২২টি দেশ থেকে আমদানীকৃত রোজবরিং মেশিন, জাম্বু ড্রিলিং মেশিন, মাসকিং লোডার, শাটল কার, মাইনিং ভেন্টিলেশন ফ্যান, ভেন্টিলেশন ডাকট, স্টপার রক ড্রিল ও প্রেশার মেশিন, ভাইব্রেটিং স্কিন ও ফিডারস, স্টীল রেইল ও ফিস প্লেট, রেল ফাস্টেনার সেট, স্পেয়ার পার্টস ফর পিনিউমেটিক রক ড্রিল, হাইড্রলিক চিজেল বেকার, পার্টস ফর ড্রিল মেশিন সিম্বা জুনিয়র, স্টীল টয়েল সেফটি ফর মাইনিং, টেপার রড এন্ড বাটন বিট, স্পেয়ার পার্টস ফর পুশার লেগ, এয়ার, ওয়াটার, হুস, কপার ট্রলি ওয়ার, পাম্পসহ মটরসহ প্রয়োজনীয় ২২৯প্রকার যন্ত্র আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকৃত যন্ত্রের ৮৫ভাগ খনিতে এসেছে সেগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৭২ভাগ যন্ত্র প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেই পাথর উত্তোলন শুরু হবে।
মধ্যপাড়া পাথর খনিতে দ্রুত গতিতে প্রতিস্থাপন করা হছে বিশ্ব মানের উৎপাদন যন্ত্র
জিটিসির প্রশিক্ষণ পরিচালক ডঃ ফররুখ আহম্মেদ বলেন, আমদানিকৃত এই যন্ত্রগুলো আন্তর্জাতিক মানের যা পৃথিবীর প্রথম শ্রেণির খনিতে ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্র মধ্যপাড়া পাথর খনিতে প্রতিস্থাপন করার ফলে এখন ভূগর্ভের মধ্যে কোন দূর্ঘটনা ঘটার আশংঙ্খা থাকবেনা। এছাড়া পূর্বের পাথর উত্তোলনের তুলনায় প্রায় ১০গুন উত্তোলন বৃদ্ধি পাবে। এতে খনিটি দ্বিগুন লাভের মুখ দেখবে।

মধ্যপাড়া খনিসুত্রে জানা গেছে, মধ্যপাড়া খনিটি ২০০৮সালের গোড়ার দিকে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন করে। প্রথমাবস্থায় প্রতিদিনের পাথর উত্তোলনের পরিমাণ ২হাজার থেকে ২হাজার ৫শত মেটন হলেও ৬মাস যেতে না যেতে উৎপাদনের পরিমাণ কমতে শুরু করে। ২০১২ সালে এসে প্রতিদিনের উৎপাদন দাড়ায় মাত্র ৫০০ থেকে ৮০০ মেটন। এতে খনিটি বড় রকমের লোকসানের মুখে পড়ে। এ কারনে খনিটিকে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করতে ২০১৩ সালের ৩০ সেম্পেটেম্বর খনিটির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ এর জন্য বেলারুশ ভিত্তিক জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোটিয়াম(জিটিস) কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী  জিটিসি ২০১৪সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে। পাথর উত্তোলনের শুরুর ৬মাসের মাথায় প্রতিদিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৪হাজার মেটন এ এসে দাড়ায়। কিন্তু উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে ২০১৫সালের ৩০শে অক্টোবর পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় খনিটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি।

জিটিসির মহাব্যবস্থাপক জামিল আহম্মেদ ও প্রশিক্ষণ পরিচালক ডঃ ফররুখ আহম্মেদ বলেন, সেই সময়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাম নাম কোম্পানী ২০০৬-০৭সালে যে যন্ত্রগুলো স্থাপন করেছিল তা খনির ধুলোমাটিতে ৫(পাঁচ)বছর যেতে না যেতেই তা অকেজো হয়ে যায়। এই কারনে শত চেষ্ঠা করেও ওই যন্ত্রগুলো আর সচল করা যায়নি। যার ফলেই উৎপাদন বন্ধ করেই উৎপাদন যন্ত্র আমদানি করতে হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য