BNPনিজস্ব প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন তা নিয়ে বিএনপিসহ জেলার রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই অতি দ্রুত এ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবী উঠেছে। যে কোন সংগঠনের জন্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে বর্তমান অবস্থা থেকে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাড়াতে পারবে বলে দলের নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি পদ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কে হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি? জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে যাদের নাম জানা গেছে, তাদের মধ্যে তিনজনের নাম বেশী শোনা যাচ্ছে। এই ৩ জনের মধ্যে রয়েছেন-এজেডএম রেজওয়ানুল হক, আখতারুজ্জামান মিয়া ও বর্তমান সভাপতি মো. লুৎফর রহমান মিন্টু। তাদের মধ্যে প্রথম দু’জন সদ্য ঘোষিত দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। দলের নেতাকর্মীদের মাঝে এ দু’জনেরই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রেজওয়ানুল হক একজন সনামধন্য ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কাজে তাকে অনেক সময় দিতে হয়। পাশাপাশি তার শারিরিক অবস্থাও খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সভাপতি হিসেবে রেজওয়ানুল হক দলকে কতটুকু সময় দিতে পারবেন এ নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় থাকলেও অনেক নেতাকর্মী তাকে সভাপতি অথবা আহবায়ক হিসেবে দেখতে চায়।

অপরদিকে আখতারুজ্জামান মিয়া একজন সফল সংগঠন হিসেবে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে সমাদৃত। মাঠ পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে তাঁর প্রতি যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। তিনি দলের জন্য একজন নিবেদিত। বর্তমান জেলা বিএনপির মাঝে যে আস্থাহীনতা ও নেতৃত্বের শূন্যতা বিরাজ করছে এই অবস্থায় তাঁর মত একজন ত্যাগী সংগঠক দলের হাল ধরলে দল আরো সুসংগঠিত হবে বলে অনেক প্রবীন ও নবীন নেতাকর্মী মনে করেন।

এছাড়া জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও নিরীহ ব্যক্তি। তিনি বিগত দিনে বিএনপিকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করলেও অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারেননি। নেতাকর্মীদের মাঝে তাঁর কোন নিয়ন্ত্রন আছে বলে অনেকেই মনে করেন না। এসব বিবেচনায় জেলা বিএনপির সভাপতি পদে লুৎফর রহমান মিন্টুর সমর্থনের খানিকটা ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে এ যাবৎ মোট ৮ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন- এ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মাহবুব আহম্মেদ, মো. মোকাররম হোসেন, আখতারুজ্জামান জুয়েল, হাসানুজ্জামান উজ্জল, অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও বখতিয়ার আহম্মেদ কচি। তবে এদের মধ্যে এ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, মোকাররম হোসেন ও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের নাম জেলা বিএনপিসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশী আলোচিত হচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, এ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল দুর্দিনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে তিনি দলকে সংগঠিত করতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। ২০০৯ সালে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের কর্মকান্ডে তেমন সময় দিতে না পারায় সাংগঠনের অনেক নেতাকর্মী তাঁর প্রতি কিছুটা হলেও বিরক্ত।

এদিকে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দিনাজপুর পৌরসভার দ্বিতীয় বারের মত নির্বাচিত মেয়র। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপির যে দুরাবস্থা, সে অবস্থায় দলটিকে সুসংগঠিত করতে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম কতটকু পারদর্শিতার প্রমান দিতে পারবেন  তা নিয়েওে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তা ছাড়া পৌর সভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তার পক্ষে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার মত যথেষ্ট সময় তার হাতে নেই বলেও অনেকেই মনে করেন।

অপরদিকে মো. মোকাররম হোসেন শুধু একজন নিষ্ঠাবান মানুষই নন, তিনি বিএনপির মাঠ পর্যায়ের একজন পরীক্ষিত নেতাও বটে। তিনি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরপর দু’বার সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের অগ্রগতির প্রশ্নে মোকাররম হোসেনের অবদান অনেক। তাছাড়া সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝেও রয়েছে তার গ্রহনযোগ্যতা। পাশাপাশি দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছেন, নেতাকর্মীদের সহায়তা দেয়ার চেষ্টাও করেছেন এবং অনেকের মামলা-মোকাদ্দমার ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন বলে অনেক ভুক্তভোগি নেতাকর্মী জানান।

এছাড়া তিনি ২০০৯ সালে দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। যা রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার কোন উপজেলায় এত বিপুল ভোট পেয়ে অন্য কেউ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারেননি। তাই মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন বিএনপির জন্য মোকাররম হোসেনের মত এমন একজন নেতার এই দুঃসময়ে খুবই প্রয়োজন।

এদিকে বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের মধ্যে সব ক’টি কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন কমিটি না হওয়ায় এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা হতাশায় ভুগছেন। তাই সকল অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

জেলা বিএনপিসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ এসব কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে আহবায়ক কমিটি গঠন, অতঃপর নতুন পর্নাঙ্গ কমিটির গঠনের দাবী জানিয়েছেন।

বর্তমান জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থাহীনতা, অবিশ্বাস, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও বিভাজনের কারণে দলটি এখন কঠিন ও দুঃসময় পার করছে। এ অবস্থায় দলকে সুসংগঠিত করতে হলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সাহসি ও নিষ্ঠাবান সংগঠকের কোন বিকল্প নেই বলে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য