ট্রাম্প সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেনযুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। অস্ত্র রাখার অধিকার সমর্থনকারীরা হিলারির জয় থামাতে পারবেন’ এ কথা বলার মাধ্যমে ট্রাম্প সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। গত বুধবার বিবিসি বলছে, আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডে মাইনের এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া ভাষণে এ অভিযোগ করেন হিলারি। তিনি বলেন, শব্দ ব্যাপক বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। ‘সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট পিপল’ বা অস্ত্রের মালিকরা হিলারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন, এমন মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হচ্ছেন ট্রাম্প। তার নিজ দলের অনেক নেতাও তার সমালোচনায় সরব হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক সক্ষমতা ট্রাম্পের নেই বলেও মন্তব্য করেছেন হিলারি।

ইরাকে নিহত যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সেনার পরিবারের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর কারণেও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন তিনি। গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবেচনাহীন মন্তব্যের আরেক নজির দেখলাম আমরা, যা আবারও সীমা অতিক্রম করল। এর আগে কোনো ধরনের বিবেচনা ছাড়াই তিনি একটি গোল্ড স্টার ফ্যামিলিকে নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করেছেন, আরো অনেক দেশের পরমাণু অস্ত্র থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এবার তার বিবেচনাহীন মন্তব্য সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে,” বলেন হিলারি। “এই প্রত্যেকটি ঘটনা দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও সর্বাধিনায়ক হওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেই,” বলেন তিনি। গত মঙ্গলবার নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে ‘অস্ত্র’ ব্যবহার করে হিলারিকে ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ঠেকানোর ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তার এ বক্তব্যকে হিলারির বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি হিসাবে দেখছেন অনেকেই।

ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী (যে সংশোধনীতে জনগণের অস্ত্র রাখা এবং অস্ত্র বহনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে) বিলোপ করতে চান। হিলারি নির্বাচিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা পেয়ে যাবেন এবং তার পছন্দমত বিচারক নিয়োগ করে অস্ত্রআইন বদলানোর চেষ্টা করতে পারেন। এ বিষয়টিকেই ব্যাখ্যা করে সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “হিলারি সুপ্রিম কোর্টে তার পছন্দমত বিচারক মনোনয়ন দিলে আপনাদের আর কিছুই করার থাকবে না। হিলারি ৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলে তিনি উদারনৈতিক বিচারক সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ করতে পারেন।

আর এতে করে মানুষের অস্ত্র রাখার অধিকার বিপণ্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আর সে কারণে এখনই অস্ত্র রাখার অধিকার কাজে লাগিয়ে হিলারিকে থামাতে হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পরপরই অনলাইনে বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে ট্রাম্প বলছেন, তিনি আসলে ভোট টানতে অস্ত্র অধিকারের সমর্থকদের তার পক্ষে আনার চেষ্টা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য