বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে Bangla bandaবাংলাবান্ধা স্থলবনব্দর দিয়ে দীর্ঘ প্রায় একমাস ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানী বন্ধ থাকায় রাজস্ব ঘাটতির আংশকা রয়েছে। সোমবার দুপুরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পাথর ব্যবসায়ীদের সংগে আলাপ-চারিতায় জানা যায়, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট চালুর পর থেকে প্রতিদিন ভারতের শতাধিক ট্রাক প্রায় ২০ থেকে ৩০ মে.টন এলসি পাথর নিয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইয়ার্ডে প্রবেশ করত। অতিস্প্রমিত ভারতের পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ফুলবাড়িতে এক জনসভায় যাবার প্রাক্কালে রাস্তায় ব্যাপক যানজোট ও ট্রাকে লোডিং ক্যাপাসিটির উপরে এলসি পাথর রপ্তানির বিষয়টি জানতে পারে। প্রতি ট্রাকের লোডিং ক্ষমতার অতিরিক্ত পাথর বহন ও রয়ালিটি ফাঁকির অভিযোগে পাথর রপ্তানীর উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এছাড়া ভারতের বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর পাহাড়ের তলাদেশ থেকে পাথর সরায়ে নেওয়ায় পরিবেশ হুমকির বিষয়টি মাথায় রেখে পাথর রপ্তানীতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে একটি রীট মামলা আনায়ন করেন। ভারতের মূখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক মামলার কারণে ভারত থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ একমাস যাবত পাথর রপ্তানী/আমদানী বন্ধ রয়েছে। আমাদের দেশে পাথর আমদানীর বিষয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও ভারতের সিএন্ডএফ ও আমদানীকারক এলসি পাথর ব্যবসায়ীরা প্রতিটি ট্রাকে ১৩ মে.টন পাথর রপ্তানী করে লেবার খরচাদি বহন সহ ব্যবসায় লকসানের আশংকায় পাথর রপ্তানীর ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে এলসি পাথর আমদানী হলে পাথর সটিং, নেটিং, ক্রাসিং, লোড-আনলোডিং ইত্যাদি কাজে কমপক্ষে বিশ হাজার মহিলা ও পুরুষ শ্রমিক সম্পৃক্ত থাকায় বন্দরের ব্যবসা ক্ষেত্রে জনসমাগম পরিলক্ষিত হতো। বর্তমানে ভারত থেকে পাথর আমদানী বন্ধ থাকায় ব্যস্থতম স্থলবন্দরটি যেন জনশূণ্যতায় পরিগণিত হয়েছে। তবে ভারত থেকে পাথর আমদানী থাকলেও নেপাল থেকে মসুর ডাল,গম, ভূট্টা সহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী আমদানী এবং বাংলাদেশ থেকে প্লাস্টিক সামগ্রী সহ নানা ধরণের পণ্যসামগ্রী নেপালে রপ্তানী করা হচ্ছে। কিন্তু এই স্বল্প ট্রাকে লোড আনলোডের কাজে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকে কাজে সম্পৃক্ত হতে পারছে। ফলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কয়েক হাজার পাথর শ্রমিকের জীবন জীবিকা রীতিমত থমকে গেছে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও শুল্ক ইমিগ্রেশন রাজস্ব কর্মকর্তা, আনিছুল ইসলাম জানান- স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানী বন্ধ থাকায় প্রতিমাসে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির আশংকা রয়েছে। সূত্রমতে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে এই বন্দরে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। গত  জুলাই/১৫  থেকে ডিসেম্বর/১৬ পর্যন্ত প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার ১০৯ টাকা। গত ফেব্রুয়ারী মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ কোটি ৫০ লাখ আশা করা হলেও তদস্থলে আদায় হয়েছে প্রায় সোয়া কোটি টাকা।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী নাহিরুল হক এবং লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইদ্রিস আলী জানান-ভারতের শিলিগুড়ির পাথর ব্যবসায়ী রপ্তানী কারক ব্যবসায়ীদের সংগে আলাপ চারিতায় জানা গেছে আগামী দু-একদিনের মধ্যে সকল সমস্যা নিরসন করে পাথর রপ্তানীর চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমাস ইন্ডাস্ট্রিজ, পঞ্চগড় এর পরিচালক ও বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন জানান-আমাদের দেশে পাথর আমদানীতে কোন সমস্যা নেই। মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকার এবং বন পরিবেশ অধিপ্তরের কিছু নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের ব্যবসায়ী পাথর রপ্তানী বন্ধ রেখেছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে আজ ৯ আগষ্ট/১৬ এবিষয়ে ভারতের আদালতের একটি সিদ্ধান্ত/রায় প্রদান করার কথা আছে। যদি আদালতের রায় ব্যবসায়ীদের পক্ষে আসে তবে দু’দিনের মধ্যে পুনরায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে এলসি পাথর আমদানী শুরু হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য