সিংহাসন ছাড়ার ইচ্ছা জানালেন জাপানের সম্রাটইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে বার্ধক্য আর ভগ্নস্বাস্থ্যের কথা জানালেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো, ইংগিত দিলেন অবসরের।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮২ বছর বয়সী সম্রাট সিংহাসন ত্যাগের বিষয়টি সরাসরি বলেননি। তবে তিনি যে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চান, সে ইংগিত তার ভাষণে স্পষ্ট।

সোমবার স্থানীয় সময় বিকল ৩টায় সম্রাট আকিহিতোর ১০ মিনিটের ওই ধারণ করা ভাষণ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানো হয়।

সম্রাট আকিহিতো বলেন, “রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে যে দায়িত্ব আমার উপর রয়েছে, এবং যা আমি এতোদিন পালন করে আসছি- আমার ভয় হচ্ছে, তা চালিয়ে যাওয়া হয়তো আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।”

২৭ বছর ধরে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসা আকিহিতোর অবসর হবে আধুনিক জাপানের ইতিহাসে এ ধরনের প্রথম ঘটনা। তার বড় ছেলে ৫৬ বছর বয়সী যুবরাজ নারুহিতোই জাপানের সিংহাসনের উত্তরাধীকারী। তার ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে।

জাপানের বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোয় সম্রাটের পদটি শুধুই আনুষ্ঠানিক। তবে সম্রাটের প্রতি জাপানিদের রয়েছে প্রগাঢ় ভক্তি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের সংবিধানে সম্রাটের স্বেচ্ছা অবসরের বিধান নেই। আকিহিতোর ইচ্ছা পূরণ করতে হলে দেশটির সরকারকে নতুন করে আইন করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনী আনার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জানিয়েছেন।

সম্রাট হিরোহিতোর জীবনাবসানের পর ১৯৮৯ সালে জাপানের সিংহাসনে বসেন তার ছেলে আকিহিতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী আমেরিকানরা জাপানের সংবিধান বদলে সম্রাটের ক্ষমতা খর্ব করার আগে জাপানিদের কাছে হিরোহিতো ছিলেন রক্ত-মাংসের ঈশ্বর।

১৯৫৯ সালে সাধারণ পরিবারের এক জাপানি তরুণীকে বিয়ে করে রীতিমত বিপ্লব ঘটান তরুণ আকিহিতো। সে সময় তাদের সেই প্রেম কাহিনী ছিল জাপানিদের মুখে মুখে। সম্রাট আকিহিতো ও সম্রাজ্ঞী মিচিকো তিন সন্তানের বাবা-মা।

২০১১ সালে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও ফুকুশিমায় সুনামির পর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন সম্রাট আকিহিতো। যেখানে জাপানিরা সম্রাটকে দেখার বা তার কথা শোনার সুযোগ খুব বেশি পান না, সেখানে ওই টেলিভিশন বক্তৃতাকে বৈপ্লবিক এক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন অনেকে।

চার বছর আগে সম্রাট আকিহিতোর বাইপাস সার্জারি হয়। তার আগে ২০০৩ সালে প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। এরপর গত জুলাই মাসে জাপানি গণমাধ্যমগুলো সম্রাটের স্বেচ্ছায় অবসরের যাওয়ার খবর দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা।

জাপানের ইতিহাসে এর আগে ১৮১৭ সালে সম্রাট কুকাকু স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে তার দায়িত্ব তার সন্তানকে দিয়েছিলেন। তবে সংবিধানে এ বিষয়ে আর সংশোধনী আনা হয়নি।

অবশ্য ১৯৪৭ সালের এক আইনে বলা হয়েছে, রাজ পরিবারের রক্ত ধমনীতে বইছে এমন কোনো পুরুষ আত্মীয় সম্রাটের স্থলাভিষিক্ত হতে পারবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য