ফুলবাড়ীতে আমন রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে আদিবাসী তরুণ-তরুণীরাওয়েব ডেস্কঃ দিনাজপুর জেলা ধান-চালে ভরপুর খ্যাত। ফসলের মাঠে মাঠে অবিরাম চলেছে ধান রোপণের কাজ। জীবন-জীবিকার তাগিদে মাঠে নেমে কাজ করছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা। সারা বছরই তারা বিভিন্ন স্থানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও রোপা-আমন ধানের ভরা মৌসুমে তারা আয় করে অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

মাঠে নেমে আমন ধান রোপণ করে প্রতিদিন আয় করে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অন্য সময় কাজ করে প্রতিদিন তারা এত আয় করতে সক্ষম হন না। তরুণদের পাশাপাশি তরুনীরাও কাজ করলেও তরুণদের চেয়ে তাদের মজুরি কম। তাতেও তাদের কোন আপত্তি নেই। তারা চায় শুধু কাজ। কাজে তাদের কোন ধরনের অনীহা বা আলসামি নেই। ভূমিহীন পরিবারের হতদরিদ্র এই তরুণ-তরুণীরা ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা’র সাথে ক্ষেতে খামারে কাজ করতে অভ্যস্ত।

ফুলবাড়ী উপজেলার কাশাঁপুকুর, গুচ্ছগ্রাম, দাউদপুর, গোঁপালপুর, শিবনগরসহ আশেপাশে রয়েছে প্রায় ৫শত আদিবাসী পরিবার। এদের কোনরকমে মাথাগোঁজার ঠাঁই থাকলেও অনেকেরই নেই আবাদি জমি। নেই আয়ের অন্য কোন পথ খোলা। শিক্ষার আলো থেকে অনেকেই বঞ্চিত আদিবাসী পরিবারগুলোর বেশিরভাগ সদস্যই ক্ষেত খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা ঘরে বসে না থেকে কাজ করে অর্থ আয় করে করছে। বিভিন্ন গ্রামে জমি চাষ করা থেকে শুরু করে ধানের চারা রোপণ, ধান কাটা ও ধান মাড়াইয়ের কাজে আদিবাসী তরুণীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

আদিবাসী তরুণ-তরুণী, ইলিয়াস মার্ডি, সোহেল হেমব্রম, সুশান্তি কস্তা, সুশীল মার্ডি, চৈতা মূর্মূ ও স্বপ্না হাসঁদা বলেন, তারা বসে না থাকে ধানের চারা রোপণ করে পরিবারে আর্থিক সাহায্যসহ নিজেদের হাত খরচ বের করছেন। তারা এই রোদ্রে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন। ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঠে মাঠে।

স্বল্পমূল্যে বেশি শ্রম পাওয়ার কারণে, এলাকার কৃষিজমি মালিকরা কৃষিকাজে আদিবাসী শ্রমিকদের ব্যবহার করছেন। তারা নিখূঁত ভাবে কাজ করে থাকেন তাই সকল জমি মালিকেরা আদিবাসী তরুণ-তরুণীদেরকে ধানের চারা রোপণসহ ধান কাটা ও ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য