Kurigram Map3কুড়িগ্রামের রাজারহাট সরকারী খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় বন্ধ থাকলেও গুদামে ধান নেয়া ছাড়াই রহস্য জনকভাবে কয়েকজনের নামে লাখ লাখ টাকার ধানের বিল প্রদান করা হয়েছে। প্রায় এক মাস পূর্বে রাজারহাট উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় বন্ধ হয়। ফলে উপজেলার শতশত কৃষক সরকারী মূল্যে গুদামে ধান সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইতিপূর্বে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা দালাল ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ধান সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এরকম দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে বর্তমান সরকারের উন্নমূলক কর্মকান্ড ভেস্তে যেতে বসেছে বলে এলাকার সচেতনমহল মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছর উপজেলা খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৬শ ৯৬ মেঃ টন ধান ক্রয়ের নির্দেশনা আসে। এরপর উপজেলা ধান ক্রয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাদ্দের বিপরীতে সমপরিমান বন্ঠন করে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের তালিকা প্রনয়ন করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ধান ক্রয় শুরু করে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। ২৯ জুনের মধ্যে উপজেলা খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৪৩.৪৪৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়। কিন্তু গত ২৪ জুলাই মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ধান ক্রয় সমাপ্তির নির্দেশ আসার পর কাগজে কলমে ১ হাজার ২শ ৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় দেখান উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকতার্ (ওসিএলএসডি) গোলাম মোস্তফা।

মূলতঃ ২৯ জুনের পর ধান ক্রয় না করেও কতিপয় চাতাল মালিকের সাথে যোগসাজস করে ধান ক্রয় না করেও তাদেরকে বিভিন্ন কৃষকের নামের বিপরীতে ধানের বিল প্রদান করা হয়েছে এবং ধান নিয়ে চাল করা দেখিয়ে চাল প্রাপ্তির মাধ্যমে তা সমন্বয়ের পায়তারা চলছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। অগ্রণী ব্যাংক রাজারহাট শাখার একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা কর্তৃক ২৪ জুলাই ২০১৬ ইং স্বাক্ষরীত ২১৬০৪০৮ থেকে ২১৬০৪২১ নম্বর বিলেই ১০ লাখ ২৫ হাজার ৮শ টাকা ধানের বিল প্রদান করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১জন খাদ্য ব্যবসায়ী জানান, মূলতঃ কাগজে কলমে এই মাসে ধান থেকে চাউল করার চুক্তি ও কতিপয় মিল মালিকের নিকট সরবরাহ দেখিয়ে ১শ ৬০ টন ধানের বিপরীতে প্রায় ৩৭লাখ টাকার ব্যবসা করেছে ওসিএলএসডি।

অভিযোগ রয়েছে, ধান ক্রয় শুরুর পর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকরা সরকারী মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য আসলে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা পুরো ৪ মাস ধান ক্রয় করা হবে বলে কৃষকদের আসার পরামর্শ দেন। এরপর এক একজন কৃষক ৩/৪ দিন করে ধন্না দেয়ার পর তাদের কাছ থেকে উচ্চহারে উৎকোচ নিয়ে ধান ক্রয় করতে থাকেন গোলাম মোস্তফা। এমনকি প্রতি বস্তা ধানের বিপরীতে প্রতিজনের কাছ থেকে ওই কর্মকর্তা ৫০/১০০টাকা উৎকোচ আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ২৯ জুন ধান ক্রয় বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হাই,আব্দুস সুবহান চাকিরপশার ইউনিয়নের কৃষক আকবর আলী ও রাজু ,উমর মজিদ ইউনিয়নের কৃষক আবু আক্কাস এবং ফজলুল হক সহ অনেকে অভিযোগ করেন,তারা ঈদের পর থেকে ধান বিক্রির জন্য সরকারী গুদামে ধন্না দিলেও ওসিএলএসডি টালবাহনা করেন। কৃষি অফিস কর্তৃক এ রকম তালিকাভূক্ত শতশত কৃষক ওসিএলএসডি’র কারনে সরকারী মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেনি না বলে জানা গেছে।

এদিকে খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় বন্ধ থাকলেও গত ২৪,২৫ ও ২৬ জুলাই  রহস্যজনক ভাবে বিভিন্ন কৃষকের নামে রাজারহাট অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে লাখ লাখ টাকার ধানের বিল প্রদান করা হয়েছে। রাজারহাট খাদ্য গুদামের কুলির সর্দার আবুল হোসেন জানান,২৯ জুনের পর কোন ধান ক্রয় করা হয়নি এবং এপর্যন্ত কোন ধান চাল করার চুক্তিতে কোন চাতাল মালিককে সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে ৩১জুলাই রোববার উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা স্বীকার করে জানান, জুলাইয়ের শুরু থেকে উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে রাজারহাট উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় বন্ধ থাকা অবস্থায় ২৫ জুলাই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে ইরি বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শেষ হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খয়বর আলী জানান, ধান ক্রয় ছাড়াই কোনো বিল প্রদানের বিষয়ে তার জানা নেই এবং এমন কোন বিলে তিনি স্বাক্ষর করেননি। অগ্রণী ব্যাংক রাজারহাট শাখার ম্যানেজার মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গত তিন দিনে কৃষকদের একাউন্ট থেকে ২/৩জন মিলার আনুমানিক ১৫ লক্ষাধিক টাকার ধানের বিল উত্তোলন করেছে। একইকায়দায় সোনালী ব্যাংক রাজারহাট শাখা থেকেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে ব্যাংক ম্যানেজার নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য