আজও এমপিও হয়নি ফুলবাড়ীর সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানবেতর জীবনযাপন করছে শিক্ষকফুলবাড়ী(দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আজোও এমপিও ভুক্ত হয়নি উপজেলার সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে বেতন ভাতা না পায়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে নন-এমপিওভুক্ত অর্ধশত শিক্ষক-কর্মচারী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্য্যালয় সুত্রে জানা গেছে, আজোও এমপিও হয়নি চকসাহাবাজপুর ও সালগ্রাম দুটি নিন্ম-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, সমশের নগর উচ্চ বিদ্যালয় এর নবম ও দশম শ্রেনি, উত্তর লক্ষ্মিপুর স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ শাখা, লালপুর দাখিল মাদ্রাসা ও আমডুঙ্গি হাট আলিম মাদ্রাসার আলিম শাখা।

এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, অর্ধশত শিক্ষক ও কর্মচারী। কেউ কেউ ১৫থেকে ১৬বছর পর্যন্ত চাকুরী করেও এখনো সরকারী বেতনভাতা পান নি। ফলে তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছেন।

উপজেলার ফুলবাড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার বলেন, এই বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে নিন্ম-মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে এই বিদ্যালয়ে ৯ম ও ১০ শ্রেণি চালু করা হয়। কিন্তু ২০০০ সালে এমপিও হওয়ার সময় নিম্ন-মাধ্যমিক হিসেবে এমপিও হওয়ায় আজোও বেতন ভাতা পাননি নবম ও দশম শ্রেনির কর্মরত ৫জন শিক্ষক, ১জন ক্যাটালগার ও ১জন নৈশ্য প্রহরী। একই অবস্থা সমশেরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানেও ২০১০ সালে নবম, দশম চালু হলেও এখনো এমপিও হয়নি।

উপজেলার চকসাহাবাজপুর নিন্ম-মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও এখনও এমপিও হয়নি। একই অবস্থা সালগ্রাম নিন্ম-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। লালপুর দাখিল বালিকা মাদ্রাসাটি  ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও এখনও এমপিও হয়নি। আমডুঙ্গির হাট আলিম মাদ্রাসাটি ২০০৩ সালে আলিম শাখা খোলা হলেও ওই শাখাটি আজোও এমপিও হয়নি। একই অবস্থা উত্তর লক্ষ্মিপুর স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ শাখার, উত্তর লক্ষ্মিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০৯ সালে কলেজ শাখা চালু করা হলেও এখনো এমপিও হয়নি কলেজ শাখাটি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস ছাত্তার বলেন, নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা সরকারী সকল নিয়ম,নীতি মেনে চাকুরী করেও তারা বেতনভাতা পাচ্ছেন না। এ কারনে তাদের উপর প্রশাসনিক চাপও মানবিক কারণে দেয়া যায় না। তিনি বলেন, এই শিক্ষকদের কারণেই ওই বিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছরই সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করছেন শিক্ষার্থীরা। অথচ তারা বিনা বেতনে এই সার্ভিস দিচ্ছে দির্ঘদিন থেকে।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি, অবিনাশ চন্দ্র বলেন, সরকারের অর্পিত দায়িত্ব শিক্ষাদান নিয়মিত করে যাচ্ছে এই শিক্ষকেরা, অথচ তারা বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ জন্য তিনি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য