নীলফামারীতে তিস্তা বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিতগত দুই দিনে উজানের ভারী বর্ষণ আর উজানের ধেয়ে আসা পানিতে ফুলে ফেঁপে ওঠা তিস্তা নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বইছে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। এর ফলে তিস্তা দুকুল ছাপিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে। সময়ের সাথে সাথে তিস্তা ক্রমেই ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে। ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারনে এরই মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে। ইতিমধ্যে শত শত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে ভারতের জলপাইগুড়ি, কুচবিহার এলাকার বাংলাদেশ অংশের মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তা অববহিকায় ভারতীয় অংশের তিস্তায় রেড এ্যালার্ট জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার রাত ৯টা হতে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে যা আজ রোববার সকাল ৬ টায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটিার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সাথে খরস্রোতা রাক্ষুসী তিস্তার তীরে আছড়ে পড়া পাগলামী ঢেউ আর পানির শোঁ শোঁ শব্দ তিস্তাপাড়কে কাঁপিয়ে তুলছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তিস্তার চর ও চর গ্রামে বসবাসরত মানুষজনকে নিরাপদে সরে যেতে বলেছে। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাভাস সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্র জানায়,  গতকাল শনিবার রাত হতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়তে থাকে। শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ১২ ঘন্টার ব্যাবধানে সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা বিপদীমা অতিক্রম করে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ৯টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ও রাত ১২ টায় বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা আজ রোববার সকাল ৬ টায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেমি)। পানির গতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল এখন হাটু পানিতে নিমজ্জিত। এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, ছাতুনামা, ঝাড় সিংহের চর, কিসমত ছাতনাই, উত্তর খড়িবাড়ী, পুর্ব খড়িবাড়ী, দোহল পাড়া, চর খড়িবাড়ী, ভাসানীর চর, টাবুর চর, ছোট খাতা, ভেন্ডাবাড়ী, বাইশ পুকর, ছোট খাতা ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে রাতেই উচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। অপরদিকে জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একতার বাজার, চরখড়িবাড়ী, ঝিঞ্জির পাড়া, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গুড্ডিমারী ও বাউরা ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবারের বসত বাড়ী হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে ওই এলাকার ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তা জিরো পয়েন্টের সূত্রগুলি জানায়, প্রচন্ড শব্দ নিয়ে হুহু করে কাদা পানি আছড়ে পড়ছে তিস্তায়। পানিতে এলাকার সমস্ত রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষের চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশী। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, কি পরিমান উজানের ঢল আসছে তা মনিটরিং করা হচ্ছে। সেই সাথে তিস্তা ব্যারাজ ও ফাড ফিউজ এলাকায় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য