ফুলবাড়ীতে মিল চাতালের মহিলা শ্রমিকদের থাকছে না ঈদের খুশিওয়েব ডেস্কঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় বর্তমানে মিল চাতাল রয়েছে ১৫৭টি। তন্মধ্যে প্রায় ১০৪টি মিল চাতাল ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। বাকী মিল চাতালগুলোতে কাজ একেবারেই কমে গেছে। ফলে এই সব চাতালে নিয়মিত শ্রম দেয়া মহিলা শ্রকিমদের এবারও খুশির ঈদ থাকছে না। মিল চাতালগুলো পর্যায়ক্রমে অটো রাইস মিলে রুপান্তরিত হওয়ায় মহিলা শ্রমিকদের কাজ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ধানের জেলা বলে খ্যাত দিনাজপুরের অন্যতম উপজেলা ফুলবাড়ীতে মিল চাতালের ব্যবসা এক সময় জমজমাট ভাবে চলতো । মাত্র ৫-৬ বছর আগেও অত্র এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল মিল চাতাল ব্যবসার মধ্যে। ৫-৬ বছরের ব্যবধানে এলাকার প্রায় ৮০/৯০ টি মিল চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। যে মিল চাতালগুলো চালু আছে সেগুলোতেও পর্যাপ্ত উৎপাদন হচ্ছে না। এসব মিল চাতালে নারী শ্রমিকরাই বেশি কাজ করে থাকে।

ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী শ্রমিকরা শ্রম দিলেও মজুরী পায় মাত্র ৯০-১০০ টাকা । তবুও কাজের অভাবে এলাকার নারী শ্রমিকরা মিল চাতালগুলোতে তাদের শ্রম বিক্রি করে থাকে। অনেক মিল চাতালে চুক্তি ভিত্তিক শ্রম বিনিময় হয়ে থাকে। অর্থাৎ ধান হাউজে ভিজানো থেকে শুরু করে ধান ভাঙ্গিয়ে চালে পরিণত করা পর্যন্ত  মণ প্রতি একটি নির্দিষ্ট রেটে অনেক মিলে শ্রমিকদের কাজ করানো হয়।

এক্ষেত্রে বিরুপ আবহাওয়ার জন্য কাজে ব্যাঘাত ঘটে বিধায় দৈনিক শ্রম বিক্রিতেই শ্রমিকরা বেশি ঝুকে পড়ে। এবার ফুলবাড়ী এলাকায় মিল চাতালগুলোতে রমজান শুরুর আগের থেকেই ধানের আমদানী কম হওয়ায় শ্রমিকদের কাজ কমে যায়। ফলে দৈনিক কাজ না পেয়ে শ্রমিকরা সপ্তাহে ২-৩ দিন কাজ করে থাকে। ফলে তাদের আয় ক্রমেই কমে যাচ্ছে। রমজান মাসে এমনিতেই দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি পায় ও খরচ বেশি হয় ।

কাজ কমে যাওয়ার জন্য আয় কম হওয়ায় রমজানের খরচ চালাতেই চাতাল শ্রমিকরা হিমসিম খাচ্ছেন। সামনে ঈদের খুশি তাদের কাছে খুশি হয়ে আসছে না। পরিবারের সন্তানদের নতুন জামা কাপড় দেয়া তো দুরের কথা তাদের মুখে এক চামুচ মিষ্টি সেমাই তুলে দিতে পারবেন কি না সে আশঙ্কা নারী শ্রমিকদের মাঝে এখন থেকেই দেখা দিয়েছে ।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জাতীয় পরিষদ সদস্য ও দিনাজপুর চাতাল শ্রমিক সহায়তা কমিটির আহবায়ক এসএম নুরুজ্জামান জামান জানান, দিনাজপুর অঞ্চলের চাতাল শ্রমিকদের বর্তমানে চরম দূঃসময় যাচ্ছে। চাতালগুলোতে কাজ কমে যাওয়ায় ও নারী শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেয়ায় পরিবারগুলোর কোন ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। এবার ঈদে ফুলবাড়ী অঞ্চলের বেশির ভাগ চাতাল শ্রমিকদের বাড়ীতে ঈদের খুশি থাকছে না।

চাতাল শ্রমিক রেহেনা, আফরোজা, বানু, আউলি, আক্তারা, আঞ্জু, আকলিমাদের মত অনেক চাতাল শ্রমিক আক্ষেপ করে জানান, সারা বছর খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও সে সব মনে থাকে না । কিন্তু বছরের একটি খুশির দিনে ছেলে মেয়েদের মুখে খুশি না দেখলে বুকটা ফেটে যায়। এবার রমজানের আগের থেকেই চাতালগুলোতে কাজ কমে যাওয়ায় আমাদের পরিবারে অভাব যেন আরও জেঁকে বসেছে । এ দেশের গরীবদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন নেই বলে তারা আক্ষেপ করে এই প্রতিবেদককে বলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য