চালসাখাওয়াত হোসেন সাখা,রৌমারী থকেঃে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের তালিকা ভ্ক্তু ১৬০ দুস্থ পরিবারের নামের ভিজিএফ’র চাল বিতরণ না করেই বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবার প্রতি ২০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও ওইসব দুস্থ পরিবারের নামের ৩টন চাল উত্তোলন করার পর চেয়ারম্যান তা কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। গতকাল সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন বঞ্চিত ওইসব দুস্থ পরিবার।

অভিযোগে জানা গেছে, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ধনতলা, দাঁতভাঙ্গা, টাপুরচর ও বালুর গ্রামের তালিকা ভুক্ত ইসমত আরা, সেকান্দার আলী, আই হোসেন, সেলিনা বেগম, আছিমন বেওয়া দুঃস্থ পরিবার গুলেঅ অভিযোগ করেন, চালের জন্য তারা তিনভরা পরিষদে ঘুরেছেন কিন্তু তাদের নামের চাল দেয়া হয়নি। চেয়ারম্যান এখন কয় চাল নেই। বিতরণ শেষ হয়ে গেছে। তাহেলে আমাদের নামের চাল কোথায় গেল।

ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কাঞ্চন বালা বলেন, ‘চেয়ারম্যান গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের সময় কালোবাজারে বিক্রি করেছে। এখন বলছে চাল নেই। বিতরণও শেষ। তাহলে ১৬০ জনের নামের চাল কই গেছে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে বার বার বলা সত্ত্বেও তিনি শুনছেন না।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদে দুস্থ মানুষ গুলো যাতে আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য সরকারি ভাবে ওই ইউনিয়নের ৫ হাজার ৫৭টি দুস্থ পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় ১শ’ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে প্রতি পরিবার ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ২০ কেজির স্থলে ১৫ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে। ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আক্তার হোসেন, ২নং ওযার্ড সদস্য মিজানুর রহমান ও ৭নং ওয়ার্ড সদস্য এহসানুল হক এবং চেয়ারম্যান ওজনে কারচুপি এবং অসংখ্য দ্স্থু পরিবারকে বঞ্চিত করে তাদের নামের প্রায় ২০টন চাল কালোবাজারে বিক্রি করেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত সব দুস্থ পরিবারকেই চাল দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারী মহিলা ইউপি সদস্য দেরীতে তার মাষ্টাররোল অন্তভ’ক্ত তালিকা নিয়ে আসায় তার তালিকায় চাউল দেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষযটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈদের আগে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তো কোনো কর্মকর্তা নেই। কাকে দিয়ে তদন্ত করব।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য