তিন দশক পর ভারতের বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত তেজস৩০ বছরেরও বেশি সময়ের চেষ্টার পর ভারতের বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে দেশীয় নকশায় এবং কারখানায় তৈরি যুদ্ধবিমান ‘তেজস’ ।

হিন্দুস্তান অ্যারোনেটিকস লিমিটেড (এইচএএল) ৩১ বছর আগে বিমানটির নির্মাণ কাজ শুরু করে।

তিন দশকের অপেক্ষা শেষে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ‘তেজস’ ভারতের বিমান বাহিনীর জন্য এক  নতুন মাইল ফলক। শুক্রবার কোম্পানির পক্ষ থেকে বিমান বাহিনীর কাছে দুইটি জঙ্গি বিমান হস্তান্তর করা হয়।

তবে ভারতে নির্মিত প্রথম জঙ্গিবিমান নয় এটি। এর আগে ১৯৬১ সালে হিন্দুস্তান অ্যারোনেটিকস লিমিটেড এইচএফ-২৪ মারুত নামের ‍যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করেছিল।

তেজসের নকশা এবং নির্মাণ ভারতেই করা হয়ছে। যদিও বিমানের ইঞ্জিন ও রাডারের মত বেশ কিছু প্রযুক্তি আমদানি করা হয়েছে।

২০১১ সালে তেজস বিমান উড্ডয়নের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।

ফরাসি যুদ্ধবিমান মিরাজ-২০০০-এর সমান সক্ষমতা রয়েছে এই ভারতীয় হালকা ও ছোট যুদ্ধবিমানের, বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়া থেকে আনা মিগ যুদ্ধবিমানগুলি বাতিল করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এর বিকল্প হিসাবে লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট ভারতেই তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আশির দশকে রাজীব গান্ধীর আমলেই।

অটল বিহারী বাজপেয়ী ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সেই নির্মীয়মান যুদ্ধবিমানের নাম দেন তেজস। নির্মাণকালে যুদ্ধবিমানটির নকশা অনেকবার বদল হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান অ্যারোনেটিকস লিমিটেড (এইচএএল) ।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ অর্থবছরে বিমান বাহিনীতে ছয়টি তেজস বিমান অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে আরো আটটি বিমান যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দাবি, তেজস বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আকারের ওজনে হাল্কা এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট যুদ্ধবিমান।

বিমানটি আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিকে অস্ত্র বহনে সক্ষম।

১৯৯৮ সালে ভারত পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই নিষেধাজ্ঞায়,  যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ স্থগিত রাখার কথাও বলা ছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য